বাংলাদেশ

কসবাকে মাদকমুক্ত ও জনবান্ধব থানা গড়ার অঙ্গীকার নতুন ওসির

◉আমিরজাদা চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ➤ মাদক নির্মূল, চোরাচালান প্রতিরোধ, অপরাধ দমন এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন কসবা থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ। শুধু অপরাধ দমন-ই নয়, মানুষের আস্থা অর্জন করে কসবা থানাকে একটি প্রকৃত জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান তিনি।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও সামাজিক ঐক্য
মাদককে সমাজের অন্যতম প্রধান ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে নতুন ওসি বলেন, মাদক ধীরে ধীরে একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। এটি কেবল তরুণদের ভবিষ্যৎই নষ্ট করে না, পরিবার ও সমাজেও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

কসবাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করতে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ওসি রাশেদ।

জনবান্ধব পুলিশিং ও দ্রুত সেবা নিশ্চিতকরণ
আধুনিক পুলিশিং সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চান নতুন ওসি। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এখন থেকে থানায় সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষকে সর্বোচ্চ সম্মান ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদান করা হবে। দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়া, জনগণের সাথে পুলিশের সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান
পুলিশের একার পক্ষে সমাজ থেকে সব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ওসি রাশেদ কসবা উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা থাকলে যেকোনো অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব। এজন্য তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান, কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, চুরি, ডাকাতি, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো যেকোনো অপরাধের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

সচেতন মহলের পরামর্শ ও কসবাবাসীর প্রত্যাশা
এদিকে, নতুন ওসির এই ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে কসবার সচেতন মহল। তাদের অভিমত, নতুন ওসি যদি থানার বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করে স্থানীয় বাস্তবতা ও পূর্বের সফল উদ্যোগগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগান, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটলে কসবায় অপরাধ দমন ও জনবান্ধব পুলিশিং বাস্তবায়ন অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন তারা।

◉ পাহাড়পুরে মাদক ও চোরাচালানে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও আড়ালেই ‘মূল হোতারা’

নতুন ওসির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কসবা থানায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। কসবাবাসীর দৃঢ় বিশ্বাস, পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসে কসবা অচিরেই একটি মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দৃঢ় নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং জনসম্পৃক্ত পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কসবা শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সর্বস্তরের মানুষের।

নিউজ নাউ বাংলা/এজেসি/ জেডআরসি/ ‌০৪ জুলাই ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button