Leadএনএনবি বিশেষ

ওষুধের দাম নির্ধারণে নিয়ন্ত্রণ কমছে সরকারের, ব্যয় বাড়ার শঙ্কা

৩২ বছর আগের নীতিতে ওষুধের দাম

কে.এ সুমন চৌধুরী, ঢাকা ➤ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া নতুন ব্যবস্থা বাতিল করে আবার ১৯৯৪ সালের কাঠামোয় ফিরেছে বাংলাদেশ। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা-২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি-২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

সরকারের যুক্তি, নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি তৈরির ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন কাঠামো না আসা পর্যন্ত ওষুধের দামের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণের পরিধি কমে যাবে। এর সরাসরি চাপ পড়তে পারে রোগীর পকেটে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ ফেব্রুয়ারির গেজেটে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংখ্যা ১৯৯৪ সালের ১১৭টি থেকে বাড়িয়ে ২৯৭টি করা হয়েছিল। অর্থাৎ নতুন করে আরও ১৮০টি ওষুধকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার উদ্যোগ ছিল।

সেই ব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় আপাতত আবার ১১৭টি ওষুধের পুরোনো তালিকাই কার্যকর থাকছে। সরকার অবশ্য জানিয়েছে, নতুন করে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ এবং মূল্য নির্ধারণের জন্য কমিটি করা হবে।

সরকার বলছে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করার আগে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

নতুন নীতির বৈধতা নিয়েও হাইকোর্টে মামলা রয়েছে। গত ২৯ জুন জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এবার আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই নতুন কাঠামো তৈরি হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেনের মতে, তিন দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞান, রোগের ধরন ও ব্যবহৃত ওষুধে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে ১৯৯৪ সালের তালিকা বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদের ওপর গুরুত্ব দেয়।

উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যয়ের চিত্র। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, মানুষের নিজস্ব অর্থে বহন করা স্বাস্থ্য ব্যয়ের বড় অংশই যায় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীতে। উচ্চ চিকিৎসা ব্যয় ইতোমধ্যে বহু পরিবারকে আর্থিক সংকটে ফেলছে।

অন্যদিকে ওষুধ শিল্প মালিকদের দাবি, ২০২৬ সালের নীতিটি পরামর্শ ছাড়াই করা হয়েছিল। তাদের মতে, কাঁচামাল, ডলার ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বাস্তবতায় কঠোর মূল্য নিয়ন্ত্রণ থাকলে অনেক ওষুধ উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, প্রতিযোগিতামূলক বাজার থাকায় নীতি বাতিলে হঠাৎ দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

কিন্তু সমস্যার আরেকটি দিকও আছে। ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের তালিকার বেশ কিছু ওষুধ এখন আর বাজারে তেমন ব্যবহৃত বা উৎপাদিত হয় না। তাই এখনই ‘ওষুধের দাম পুরোপুরি কোম্পানির হাতে চলে গেছে’ বলা ঠিক হবে না। তবে নতুন তালিকা না আসা পর্যন্ত সরকারের প্রত্যক্ষ মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতা সীমিত থাকছে।

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ০৯ আগস্ট ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button