
আমিরজাদা চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সবুজে ঘেরা শান্ত ও মনোরম পরিবেশের জন্য পরিচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন। অথচ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আড়ালেই গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর মাদকের সাম্রাজ্য।
অভিযোগ উঠেছে, রেস্তোরাঁ ও আখের রস বিক্রির আড়ালে সেখানে প্রকাশ্যে চলছে রমরমা মাদক ব্যবসা। অভিনব এই কৌশলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন চলছে অবৈধ এই কারবার, যার ফলে চরম ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় যুবসমাজ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিজয়নগর থানার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পূর্বপাড়া ৪নং ওয়ার্ডে এই মাদক সিন্ডিকেটটি পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ ব্যবসার মূল হোতা সভাচান মিয়ার ছেলে নাদিম হোসেন। উপরে রেস্তোরাঁ এবং নিচে আখের রসের দোকান—এমন ভিন্নধর্মী ব্যবসায়িক কৌশল অবলম্বন করে সম্পূর্ণ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন মাদকের এই রমরমা আসর।
এলাকাবাসীর দাবি, এই মাদক সিন্ডিকেটের পেছনে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মদদ। অভিযোগ রয়েছে, বিষ্ণুপুর এলাকার বিএনপি নেতা ইলিয়াস ও তার ভাই আরিফের প্রত্যক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় নাদিম হোসেন এই অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। প্রভাবশালীদের প্রশ্রয় থাকায় স্থানীয়রা এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
মাদকের এই অবাধ আগ্রাসনের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজ প্রতিনিয়ত মাদকে আসক্ত হয়ে বিপথগামী হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অবিলম্বে এই অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিজয়নগরের সচেতন নাগরিক সমাজ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত নাদিম হোসেনের মুঠোফোনে (০১৭১৫ ৮৮..০০) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সার্বিক বিষয়ে বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নাদিম হোসেন আখের রস ব্যবসার আড়ালে মাদক বিক্রি করছেন, এমন অভিযোগ জানিয়ে বিষ্ণুপুর এলাকা থেকে বিভিন্ন লোক আমাকে ফোন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
ওসি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে বিজয়নগর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬



