Leadইকোবিজ

জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২৬ পাস

◉ ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা

◉➤ তিন সপ্তাহের বিতর্ক আর শেষ মুহূর্তের একগুচ্ছ ছাড়ের পর অবশেষে পাস হয়ে গেল ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার নতুন বাজেট, যা আগামী ১ জুলাই বুধবার থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। সংখ্যার চেয়েও এই বাজেটকে আলাদা করে তুলছে তার রাজনৈতিক ওজন। চলতি বছরের নির্বাচনে জয়ী বিএনপি সরকারের এটাই প্রথম বাজেট, দেশের ইতিহাসে ৫৫তম।

১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যখন এই বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন, তখন থেকেই করনীতি, মূল্যস্ফীতি আর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন।

বদলের শুরুটা হয়েছিল সোমবার (২৯ জুন), যেদিন অর্থবিলে ৬৮টি সংশোধনী এনে তা পাস করা হয়। এর মধ্য দিয়েই শুল্ক-করের নতুন কাঠামো কার্যকরের পথ তৈরি হলো। এসব সংশোধনীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দেবে করমুক্ত আয়সীমা চার লাখ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে মধ্যবিত্ত করদাতাদের পকেটে।

◉ ১ জুলাই থেকে ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

সরকার পিছু হটেছে আরও দুটি জায়গায়। জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে নিবন্ধনের সুযোগ সীমিত করার যে বিতর্কিত প্রস্তাব ছিল, তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি খাতে নতুন ভ্যাট বসানোর পরিকল্পনাও বাতিল হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী নিজেই সমাপনী বক্তব্যে স্বীকার করেছেন, সংসদ সদস্যদের মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েই এই পরিবর্তনগুলো আনতে হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও স্বতন্ত্র সদস্যদের পাশাপাশি বিরোধী দলের মতামতও সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে।

বাজেট পাসের প্রক্রিয়াটাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য মন্ত্রীরা মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি তোলেন, যেগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়ে যায় বাধাহীনভাবে। বিপরীতে বিরোধী দলের সদস্যরা ছুড়ে দেন ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব। সংখ্যার বিচারে যা বিশাল হলেও কণ্ঠভোটের সামনে টেকেনি একটিও। শেষে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সিলমোহর পড়ে পুরো বাজেটে।

◉ ঢাকায় ঢুকছে পূর্বাচল, বড় হচ্ছে রাজধানীর মানচিত্র

সংখ্যার হিসাবে গত অর্থবছরের ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেটের তুলনায় এবারের বাজেট বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার সিংহভাগ অর্থাৎ ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের দায়িত্ব এনবিআরের কাঁধে।

আর ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। সরকার এই বাজেটের মধ্য দিয়ে মূল্যস্ফীতি সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনা এবং প্রবৃদ্ধি সাড়ে ছয় শতাংশে তোলার লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে। লক্ষ্য পূরণ হবে কি না, তার পরীক্ষা শুরু হবে জুলাইয়ের শুরুর দিন থেকেই।

নিউজ নাউ বাংলা/কেএএস/ জেডআরসি/ ‌৩০ জুন ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button