
◉➤ দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই রোগে ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি ৮০০ ছুঁই ছুঁই করছে। বিপুল সংখ্যক রোগীকে পরীক্ষার আওতায় আনতে না পারায় নিশ্চিত শনাক্তের চেয়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় আট গুণ বেশি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও ময়মনসিংহে একজন করে মারা গেছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
সরকারি হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ৭৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৯৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি বিপুল সংখ্যক, অর্থাৎ ৭০২ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু হামের উপসর্গ নিয়ে। সন্দেহভাজন মৃত্যুর এই বিশাল সংখ্যা মাঠপর্যায়ে সময়মতো রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মারাত্মক সীমাবদ্ধতাকেই সামনে আনছে।

সংক্রমণের চিত্রও একই রকম উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর নতুন করে উপসর্গ নিয়ে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরও ৮৭৮ জন। এ নিয়ে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৭০৮ জনে দাঁড়ালেও, সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৮ জনে।
উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও আক্রান্তের এই বিশাল ব্যবধান প্রমাণ করে যে, মাঠপর্যায়ে রোগ নির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি কার্যকর নয়। লক্ষাধিক সন্দেহভাজন রোগীকে কেন পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি এবং টিকাদান কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা কী—স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিসংখ্যানে তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের এই ঘাটতি হাম পরিস্থিতিকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলছে কিনা, তা নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ২১ জুলাই ২০২৬



