Leadবাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল, তিন শূন্যপদে আলোচনায় যারা

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করেছে বিএনপি।

জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তার রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই রাজনীতি ও প্রশাসনিক অঙ্গনে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অন্য এক হিসাব—মির্জা ফখরুলের প্রস্থানে ফাঁকা হতে যাওয়া তিনটি হেভিওয়েট পদের সম্ভাব্য উত্তরসূরি কারা?

একই সঙ্গে শূন্য হতে যাওয়া পদ তিনটি হলো—বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন। এসব পদে কে বা কারা আসছেন সে আলোচনাই এখন সর্বত্র।

মহাসচিব পদে ভারপ্রাপ্ত রিজভী নাকি স্থায়ী কমিটির কেউ?

২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হিসেবে বিএনপির চালিকাশক্তি ছিলেন মির্জা ফখরুল। টানা দীর্ঘ সময় দল পরিচালনায় তার স্থানে কে আসছেন—তা বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য সবচেয়ে স্পর্শকাতর প্রশ্ন।

দলের অভ্যন্তরে ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সবচেয়ে এগিয়ে। কারণ, আওয়ামী লীগের দেড় যুগে সবচেয়ে বেশি বিএনপির হয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া রিজভীকে ফাঁকা মহাসচিব পদের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। জাতীয় কাউন্সিলের আগে তাকে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বিকল্প হিসেবে স্থায়ী কমিটির কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও, মাঠপর্যায়ের বার্তা এবং কার্যালয়কেন্দ্রিক সক্রিয়তার বিচারে রিজভীর নামই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে, মহাসচিবের দৌড়ে আলোচনায় আছেন ডা. এজেডএম জাহিদ ও হাবিবুন নবী খান সোহেলের নাম।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়: মন্ত্রিসভায় রদবদলের আভাস

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী দপ্তরগুলোর একটি। মির্জা ফখরুল পদত্যাগ করলে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে সচিবালয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমান মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞ কোনো সিনিয়র মন্ত্রীকে এই দপ্তরের বাড়তি দায়িত্ব দিতে পারেন অথবা দপ্তর পুনর্বণ্টন করতে পারেন। ফখরুলের মন্ত্রণালয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচনায় আছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বিএনপির রাজনৈতিক মহলে তার নামটিই বেশি আলোচিত হচ্ছে। তবে আজকালের মধ্যেই প্রতিটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে যাবে।

অন্য একটি হিসাব বলছে, নতুন কাউকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আনা হতে পারে। তবে সরকারের শুরুতেই এত বড় মন্ত্রণালয়ে অনভিজ্ঞ কাউকে বসানোর ঝুঁকি হাইকমান্ড নেবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন: আসন শূন্য ও উপনির্বাচন

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করলে তার সংসদীয় আসনটি পদাধিকারবলে শূন্য হয়ে যায়। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সংসদ সচিবালয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে।

সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। উত্তরাঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই সমীকরণ শুরু হয়েছে।

মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা বাবার আসনে নির্বাচন করতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। তিনি গত নির্বাচনে বাবা মির্জা ফখরুলের জন্য ভোটের মাঠে কাজ করেছেন। পেশায় তিনি একজন চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং সেখানে সমাজসেবামূলক কাজের জন্য তার বেশ পরিচিতি রয়েছে।

এ ছাড়া আলোচনায় আছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় তিনি।

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১৩ আগস্ট ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button