Leadবাংলাদেশ

দিনমজুর বাবার ছেলে জাহিদের জিপিএ-৫, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

◉ আমিরজাদা চৌধুরী | ব্রাহ্মণবাড়িয়া রাজমিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালান বাবা। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা ঘোচাতে ধারদেনা করে বড় ভাইকে প্রবাসে পাঠানো হলেও এখনো ফেরেনি সচ্ছলতা।

দারিদ্র্যের এমন কঠোর বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনায় অদম্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছে মো. জাহিদ হোসেন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে।

উপজেলার আড়াইবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিনের ছেলে জাহিদ। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রতিটি বিষয়ে জিপিএ-৫ সহ মোট ১১৩১ নম্বর পেয়েছে জাহিদ। ভবিষ্যতে সে একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করতে চায়।

জাহিদদের জীর্ণ টিনের ঘরে এখন অভাবের হতাশা ছাপিয়ে বইছে আনন্দের উচ্ছ্বাস। এই সাফল্যের পেছনে নিজের অধ্যবসায় ও শিক্ষকদের অবদানের কথা জানিয়ে জাহিদ বলে, “নিয়মিত ও মনোযোগ দিয়ে পড়ার কারণেই এই ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি। স্কুলের শিক্ষকরাও আমাকে সব সময় অনেক সহযোগিতা করেছেন।”

ছেলের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমাদের অভাবের সংসার। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তারপরও ছেলের পড়ার প্রবল আগ্রহ দেখে কষ্ট করে হলেও পড়ালেখার খরচ মিটিয়েছি। ছেলের এই সাফল্যে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।”

জাহিদের এই লড়াইয়ের সাক্ষী কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, “জাহিদ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান, কিন্তু সে দারুণ মেধাবী ও পরিশ্রমী। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সে পড়ালেখায় যে একাগ্রতা দেখিয়েছে, তা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাকে সব সময় সহযোগিতা করা হয়েছে।”

নিউজ নাউ বাংলা/এজেসি/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১৩ আগস্ট ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button