
◉ আতোয়ার রহমান, ঢাকা ➤ আম উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দশে এলেও রপ্তানিতে আশপাশেও নেই। চলতি বছর ৫ লাখ ৪ হাজার একর জমিতে ২৭ লাখ টন আম উৎপাদনের আশা করছে সরকার। অথচ দেশে ২০ হাজার কোটি টাকার আমের বাজার থেকে অভ্যন্তরীন জটিলতায় মাত্র ১০০ কোটি টাকার নিচে রপ্তানি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম রপ্তানিতে সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা সবচেয়ে বেশি দায়ী। উৎপাদনের বিপরীতে রপ্তানিতে এই ভজকটে প্রতি বছর চাষিদের লোকসান দিতে হচ্ছে।
উৎপাদনে এগিয়ে, রপ্তানি তলানিতে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৮০ টন আম রপ্তানি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৫০০ টন। ইতালি ও সৌদি আরবে যুক্তরাজ্যের অর্ধেক প্রায় ২৫০ টন করে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফ্রান্স, মালদ্বীপ, কাতার, সুইডেন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হয়েছে।
আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের শীর্ষ দশে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় হলেও সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতায় এখনও আন্তর্জাতিক আম বাণিজ্যে বাংলাদেশ অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যমতে, দেশে বিভিন্ন ধরনের আম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরসাপাতি, আম্রপালিসহ অর্ধশত প্রজাতির আম চাষ হয়।
এছাড়া বারি আম-১ থেকে বারি আম-৯ পর্যন্ত উন্নত জাতের আমও উৎপাদিত হয়। তবে সব আম রপ্তানিযোগ্য নয়, অল্প কয়েকটি জাতের আম বিভিন্ন দেশে রপ্তানিযোগ্য। ল্যাংড়া, ফজলি, হিমসাগর, বারি আম-২, বারি আম-৩, বারি আম-৭, ক্ষীরসাপাতি এবং আশ্বিনা জাতের আম রপ্তানি হয়ে থাকে।
আম উৎপাদনের বিগত ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে ২১ লাখ ৪৩ হাজার টন আম উৎপাদন হয়। প্রায় ১০ বছরে উৎপাদন বেড়ে ২০২৫ সালে ২ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ২৬ লাখ ৬২ হাজার টন আম উৎপাদন হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০২১ সালে আমের ফলন হয়েছিল ২ লাখ ২ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ টন ও ২০২৩ সালে ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪৫৯ টন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার ১৯৪ টন আম রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৪ সালে রপ্তানি হয়েছিল ১ হাজার ৩২১ টন। আর ২০২৩ সালে ৩ হাজার ১০০ টন রপ্তানি হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। গত কয়েক বছরে রপ্তানির পরিমাণ আড়াই থেকে তিন হাজার টনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
২০২৪-২৫ সালের শীর্ষ ১০টি আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারত বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী দেশ, যারা ২০২৪ সালে মোট ২৬.৩ মিলিয়ন টন আম উৎপাদন করেছে। পর্যায়ক্রমে ইন্দোনেশিয়া, চীন, পাকিস্তান, মেক্সিকো, ব্রাজিল, মালাউই, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ১.৪ মিলিয়ন টন আম উৎপাদন করেছে।

তবে এ তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে থাকার কথা ছিল বাংলাদেশের। যেখানে ২৫ লাখ টন উৎপাদন করে মেক্সিকো পঞ্চম স্থানে সেখানে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টন উৎপাদন করে অষ্টম স্থানে যায় বাংলাদেশ! সরকার সঠিক সময়ে তথ্য তুলে না ধরায় কম উৎপাদন করেও ব্রাজিল ও মালাউই বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়।
পরিমাণে অল্প হলেও বাংলাদেশের সুস্বাদু আম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। প্রধানত ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন ও কানাডার মতো দেশগুলোয় বাংলাদেশের আম রপ্তানি করা হয়।
বিগত আট বছরে কৃষি বিভাগের আম রপ্তানির হিসাবে দেখা যায়, ২০১৭ সালে আম রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৩০৯ টন, পাঁচ বছর পর ২০২২ আম রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১ হাজার ৭৫৭ টন। আর ২০২৩ অর্থবছরে আরো বৃদ্ধি পেয়ে আম রপ্তানি হয় ৩ হাজার ১০০ টন। কিন্তু ২০২৪ অর্থবছরে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আম রপ্তানি কমে যায়, রপ্তানি হয় ১ হাজার ৩২১ টন আম। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ২ হাজার ১৯৪ টন আম রপ্তানি হয়। তবে এসব চিত্র মোট আমের খুবই নগণ্য।
মেক্সিকো বিশ্বের বৃহত্তম বা প্রধান আম রপ্তানিকারক দেশ, যারা ২০২৪ সালে মোট ৬০৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের আম রপ্তানি করেছে। দেশভিত্তিক আম রপ্তানি এবং আম রপ্তানির তথ্যানুসারে, ২০২৪-২৫ সালের শীর্ষ ১০টি আম রপ্তানিকারক দেশে বাংলাদেশের নাম নাই।
যেখানে ১৬০ মিলিয়ন ডলার আম রপ্তানি করে ভারত, যা বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ। নেদারল্যান্ডস ৪২০ মিলিয়ন ডলার (২৫.৩ শতাংশ), ব্রাজিল ৩৪৫ মিলিয়ন ডলার (২০.৮ শতাংশ), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৫০ মিলিয়ন ডলার (৩ শতাংশ), জার্মানি ৪৩ মিলিয়ন ডলার (২.৬ শতাংশ), পর্তুগাল ৩০ মিলিয়ন ডলার (১.৮ শতাংশ), বুরকিনা ফাসো ২৫ মিলিয়ন ডলার (১.৫ শতাংশ), দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ মিলিয়ন ডলার (১.২ শতাংশ) ও পাকিস্তান ১৮ মিলিয়ন ডলার (১.১ শতাংশ) রপ্তানি করে শীর্ষ দশে রয়েছে।
উৎপাদন পর্যায়ে সমস্যা ও রপ্তানিতে সরকারের করণীয়
২০২৩ সালে রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে প্রকল্প নেয় তৎকালীন সরকার। প্রকল্প কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য বলছে, রপ্তানিযোগ্য আমের কিছু শর্ত ও বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক; যেমন- প্রতিটি আম রোগের জীবাণু, পোকামাকড়, হেভি মেটাল ও দাগ মুক্ত হওয়া।
তাছাড়া আমের ওজন ২০০-৩৫০ গ্রাম, চামড়া রঙিন, শাঁস দৃঢ় ও অল্প মিষ্টতা থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে এসব সমস্যা সমাধান করা হয়েছে প্রকল্পের সহযোগিতার মাধ্যমে। কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে উত্তম কৃষিচর্চা অনুসরণ করে ২০১ জন চাষি রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করছেন। এর ফলে রপ্তানিযোগ্য আমের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজার টন।
অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে আম উৎপাদন বৃদ্ধি ও ফরওয়ার্ড মার্কেটিং বিষয়ে এক প্রতিবেদন তৈরি করে। স্থানীয় বাগান থেকে বিশ্ববাজারে কিভাবে আম নিয়ে যাওয়া যায় তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয় ওই প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, বৈশ্বিক বাজারে আমের চাহিদা ও বিপণন মার্কেট সম্পর্কিত তথ্য বাংলাদেশের কাছে খুব দুর্বল। আমের মান উন্নত করাসহ বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বব্যাপী সুপারশপসহ বৃহত্তর বাজার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য বৃহত্তর রপ্তানি প্রস্তুতি নিতে সঠিক রূপরেখা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেওয়া হয় ওই প্রতিবেদনে।

বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক এবং এশিয়ার শীর্ষ আমদানিকারকসহ প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রবেশাধিকার, বাংলাদেশি আমের কোয়ালিটি প্রচার করা, মানোন্নয়ন ও বিপনণে দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি শক্তিশালী করা, কূটনৈতিক মিশনগুলোর পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বাংলাদেশের আমের জন্য একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং চালু করা এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা।
এসব কাজ করার জন্য সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিমান বাংলাদেশ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিবে বলেও অঙ্গীকার করে। তবে সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক খুব দুর্বল বলে অভিযোগ তুলেছে গবেষক ও রপ্তানিকারকরা।
রপ্তানিকারকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উচ্চ বিমান ভাড়া। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আম রপ্তানিতে প্রতি কেজিতে শুধু বিমান ভাড়াই গুনতে হচ্ছে ৫০০ টাকার বেশি। ফলে উৎপাদন, বাছাই, প্যাকিং, পরিবহনসহ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ ছাড়া পরিকল্পিত কন্ট্রাক্ট ফার্মিংয়ের সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক মানের গ্রেডিং ও প্যাকিং সুবিধার ঘাটতি, অ্যাক্রিডিটেশন ল্যাবের অভাব, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত কোল্ড চেইন সুবিধা না থাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতাও রপ্তানি বাড়ানোর পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্ট এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ মনসুর বলেন, আম পাঠানোর সমস্যাগুলোর মধ্যে ফাইটোস্যানিটারি সনদ জটিলতা, বিমানভাড়া, প্যাকিংসমস্যা অন্যতম। বিদেশে আম রপ্তানির জন্য স্বাস্থ্য সনদ (ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট) প্রয়োজন হয়। অনেক সময় এসব সনদ প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও বিলম্ব হয়।
পর্যাপ্ত হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট না থাকাও একটা বড় সমস্যা। উৎপাদন অঞ্চলে প্যাকিং করার সুযোগ নাই। রপ্তানিকারক বা বড় কৃষকদের বাগান থেকে আম ঢাকার শ্যামপুরে কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউসে নিয়ে তারপর বিমানবন্দরে যেতে হয়। অথচ রাজশাহীতেই একটা ছোট প্যাকিং হাউস প্রয়োজন ছিল।
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের বিমান ভাড়া অনেক বেশি, যা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সমস্যা সৃষ্টি করে। কার্গো স্পেসের অপ্রতুলতা রয়েছে। সরকার চাইলে সেই সুবিধা দিতে পারে। এক হিসেবে আম রপ্তানিতে প্রধান বাধা সরকার নিজেই। এবার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি; বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি। এ যুদ্ধ চলতে থাকলে কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বিমান চলাচল বিঘ্নিত হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আম রপ্তানির ওপর। এছাড়া রাজশাহী থেকে আম আনা-নেওয়াতেই ১৫ শতাংশ আম নষ্ট হয়। এতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কৃষক।
আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণাকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, পর্যাপ্ত রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন হলেও বেশকিছু সমস্যার থাকার কারণে রপ্তানিতে আলোর মুখ দেখছে না। দেশের সর্বোচ্চ আম রপ্তানির সক্ষমতা ৮ হাজার টন। সরকার চাইলেও বেশি রপ্তানি করতে পারবে না। বিশ্বের কোন কোন দেশে কী পরিমাণ আম রপ্তানি করা যায়, বাজার সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ সেভাবে করা হয় না।
ফলে সরকারের চেয়ে কৃষক নিজে যতটুকু পারে বিচ্ছিন্নভাবে আম রপ্তানি করে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যবস্থা করা যেত। সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আম রপ্তানিতে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সরকারের উদ্যোগ পুরো রপ্তানি চিত্র পাল্টে দিতে পারে। চতুর্থত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরামর্শ কন্টাক্ট ফার্মিং গড়ে তোলা। যেমন আম উৎপাদনের আগেই কৃষকের কাছে বিদেশি অর্ডার রেডি থাকা। সরকার এরকম কন্টাক্ট ফার্মিংয়ে জোর দিতে পারে। এছাড়া যতই প্রকল্প নেওয়া হোক সফলতা তেমন মিলবে না। দিন শেষে চাষিরা লোকসান গুনবেন।
রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, দেশে আমের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এবার রপ্তানিযোগ্য আমের পরিমাণ ৭ হাজার টন আশা করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে উৎপাদন ছিল ২৩-২৪ লাখ টন, গত বছর তা ২৬ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। এবার ২৭ লাখ টন উৎপাদন হতে পারে। সরকারের লক্ষ্য থাকে পূর্ববর্তী বছরের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাওয়া।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য আমের রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষির সার্বিক উন্নয়নে ‘বরেন্দ্র প্রকল্প’ পুনরায় চালু, যথাযথভাবে আম সংরক্ষণের জন্য ‘বিশেষ হিমাগার’ স্থাপন, বিশেষায়িত কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল গড়ে তোলা ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আম রপ্তানি বাড়াতে শুধু ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ স্থাপন যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি মান নিয়ন্ত্রণ, গ্রেডিং, পরীক্ষাগার ও সার্টিফিকেশন, নিরাপদ পরিবহন, বাজার সংযোগ, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মানদণ্ড পূরণ নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও কারিগরি দিক থেকে গ্রহণযোগ্য প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও রপ্তানি সহায়তা বিবেচনা করা হবে।
বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্পের বাস্তবতা, সম্ভাব্য রপ্তানি আয়, কৃষকের ন্যায্যমূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইনের উন্নয়ন বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আম ছাড়াও বরেন্দ্র অঞ্চলের অন্যান্য কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা বিবেচনায় একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রোথ সেন্টার, হিমাগার স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় আগামী বাজেট ও পরবর্তী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১৬ আগস্ট ২০২৬



