মুক্তবাক

ফ্যাশনের নামে বিভ্রান্তি নয়, সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা জরুরি

◉ কে.এ সুমন চৌধুরী ➤ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন কিছু কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে, যেখানে একজন পুরুষ নিজেকে নারীর পোশাকে উপস্থাপন করে সেটিকে ফ্যাশন, বিনোদন বা আধুনিকতার প্রতীক হিসেবে প্রচার করছেন। বিষয়টি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা, সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার প্রয়োগ এমন হওয়া উচিত, যাতে তা সমাজে অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি, বিতর্ক বা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি না করে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়বস্তু শিশু-কিশোরদের চিন্তা, রুচি ও মানসিক গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেকোনো বিষয়কে “ফ্যাশন” বা “ট্রেন্ড” হিসেবে উপস্থাপনের আগে তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। 

বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের একটি নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। সেই ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান দেখানো প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। যদি কোনো কনটেন্ট জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করে বা সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি প্রচলিত আইন ও নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করা।

আমি মনে করি, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ ধরনের বিষয় নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করবে। যদি কোনো কার্যক্রম প্রচলিত আইন, সম্প্রচার নীতিমালা বা জনস্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তির অধিকারও আইনসম্মতভাবে সম্মান করা জরুরি।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে স্বাধীনতা থাকবে, আবার সামাজিক দায়বদ্ধতা, সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মানও সমানভাবে বজায় থাকবে।

নিউজ নাউ বাংলা/ কেএসসি/ জেডআরসি/ ১৪ জুলাই ২০২৬

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button