
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন। শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের বিষয়ে ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পদত্যাগের পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দৌড়ে যারা
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রবীণ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা আবদুল মঈন খানের নাম আগে আলোচনায় থাকলেও, বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা চুক্তিভিত্তিক এক সচিবের নাম জোরেশোরে সামনে এসেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই অনুষ্ঠিত হবে, তাই এই পদের গুরুত্ব এখন রাজনৈতিকভাবে অপরিসীম।
পাবনা থেকে বঙ্গভবনে
তথ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুরের জুবিলি ট্যাংক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শরফুদ্দিন আনসারী, মায়ের নাম খায়রুন্নেসা। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ১৯৬৭-৬৮ সালে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৯-৭০ সালে অবিভক্ত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং ১৯৭০-৭৩ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাবনা টাউন হল ময়দানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারীদের মধ্যে সাহাবুদ্দিন ছিলেন অন্যতম। তিনি পাবনা জেলা স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাহাবুদ্দিন ১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর সদস্য হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দেন।
১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিচার) ক্যাডারে যোগ দেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করেন। সাহাবুদ্দিন ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সাহাবুদ্দিনের স্ত্রী ড. রেবেকা সুলতানা সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে ২০০৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। মো. আরশাদ আদনান তাদের একমাত্র সন্তান। তার দুই যমজ নাতি তাহসিন মো. আদনান ও তাহমিদ মো. আদনান। ভ্রমণ, বই পড়া ও গান শোনা রাষ্ট্রপতির প্রিয় শখ।



