◉➤ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আশঙ্কায় ইরানের বিরুদ্ধে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, ঠিক সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তিধর দেশ সৌদি আরবকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ করে দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং বিতর্কিত অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই ‘১২৩ চুক্তি’-র অধীনে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদির বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি ও দক্ষতা সরবরাহ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ চুক্তিটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞদের মতে এটি এই অঞ্চলে নতুন করে পারমাণবিক প্রতিযোগিতার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের এই চুক্তির সবচেয়ে বিতর্কিত দিকটি হলো—এতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ পর্যায়ের কড়া তদারকি বা নিয়মিত অঘোষিত পরিদর্শনের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সাথে করা মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করার এবং কঠোর পরিদর্শনের শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
সুরক্ষামূলক এসব ব্যবস্থা না থাকায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। লন্ডন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই)-এর বিশেষজ্ঞ দারিয়া দোলজিকোভা সতর্ক করে বলেছেন, ‘যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের চুক্তি পারমাণবিক বিস্তার প্রতিরোধের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
মার্কিন নীতির চরম বৈপরীত্য
চুক্তি স্বাক্ষরের সময়কালটি ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতির একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
অথচ ঠিক একই সময়ে রিয়াদকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির চরম বৈপরীত্যকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন এ ধরনের চুক্তিকে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অর্থপূর্ণ অগ্রগতির শর্তের সাথে যুক্ত করেছিল। তবে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন পূর্ববর্তী সেই শর্তগুলোর তোয়াক্কা না করেই রিয়াদের সাথে এই চুক্তি সম্পন্ন করলো
তবে চুক্তিটি এখন-ই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হচ্ছে না। এটি এখন মার্কিন কংগ্রেসে বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হবে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষ যদি অসম্মতি প্রস্তাব পাস করে, তবে এই চুক্তি আটকে যেতে পারে।
যদিও কংগ্রেসের ভেতরে ইতোমধ্যেই কিছু আইনপ্রণেতা মধ্যপ্রাচ্যের মতো একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং স্পর্শকাতর অঞ্চলে নতুন করে পারমাণবিক সক্ষমতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগের প্রকাশ্যে বিরোধিতা শুরু করেছেন।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ২৩ জুলাই ২০২৬



