
চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার ২৭ দিন পর আকাশ সরদার (২১) নামের এক তরুণের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার রাতে র্যাব-১-এর সহায়তায় মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ আগস্ট (সোমবার) সকালে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ইজতেমা ময়দানের ড্রেন থেকে আকাশের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আকাশ সরদার ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ঈশানগোপালপুর ইউপির রহমত বেপারীপাড়া গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিদেশে চাকরি শেষে দেশে ফিরে বেকার হয়ে যায়। পরে আকাশ তার পূর্বপরিচিত একজনের সঙ্গে চাকরির বিষয়ে যোগাযোগ করেন। গত ২৭ জুলাই মো. মাজহারুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবক তাকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুরের বাড়ি থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে।
ওই দিন সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সুমন নামে অপর এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে আকাশের স্ত্রী জেরিনকে ফোন করে জানায়, আকাশকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর থেকে আকাশের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করতে না পেরে গত ২ আগস্ট নিহত আকাশের বাবা মো. করিম সরদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. হাসান সিকদার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি মো. মাজহারুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে রিকুইজিশনের ভিত্তিতে উত্তরা র‍্যাব-১ এর একটি আভিযানিক দল গত ২৩ আগস্ট গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাজাহারুলকে আটক করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আকাশকে হত্যা করে ইজতেমা ময়দানের পূর্ব পাশের একটি ড্রেনে লাশ গুম করে রাখা হয়েছে বল স্বীকার করে।
স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২৪ আগস্ট সকালে আকাশের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

