Friday, 25 September 2026 Breaking News
চ্যাটজিপিটিতে কৌশল খুঁজে মা-ভাইকে খুন!

চ্যাটজিপিটিতে কৌশল খুঁজে মা-ভাইকে খুন!

13 August 2026 · বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে মা ও ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম অর্জুন আরবিন্দ (১৭)। সে অ্যাকটন-বক্সবরো আঞ্চলিক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

কিশোরটির অনলাইন হিস্ট্রি থেকে জানা যায়, মা-ভাইকে হত্যার আগে সে চ্যাটজিপিটির কাছে ‘পরিবার হত্যার’ কৌশল জানতে চেয়েছিল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে কোনো এক সময়ে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায় অর্জুন। এরপর সে মায়ের গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতভর তাকে খোঁজার পর বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে অভিযান শেষ হয় এবং তাকে আটক করা হয়। অর্জুনের বিরুদ্ধে তার ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন ও ১৪ বছর বয়সী ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে হত্যার দুটি অভিযোগ, পরিবারের সদস্যের ওপর হামলা ও মারধরের দুটি অভিযোগ, হামলা ও মারধরের আরও দুটি অভিযোগ, অনুমতি ছাড়া গাড়ি ব্যবহারের একটি অভিযোগ এবং মোটরযান চুরির একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অর্জুন মঙ্গলবার তাদের অ্যাকটনের বাড়ির ভেতরে মা ও ভাইকে প্রাণঘাতী আঘাত করেন। মিডলসেক্স জেলা অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান ও অ্যাকটন পুলিশের প্রধান ডগলাস স্টার্নিওলো জানান, অ্যাকটনের মার্থা লেনের বাড়িতে ওই দুইজনের মৃত্যু হয়। বাড়িটি বোস্টন থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে।

অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুধা ভেঙ্কটেশন ও সিদ্ধার্থকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। সুধার মরদেহ বাড়ির নিচতলায় পাওয়া যায়। আর তার ছেলেকে পাওয়া যায় বাড়ির প্রথম তলায়।

দুইজনের শরীরেই স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে প্রধান চিকিৎসা পরীক্ষক এখনো তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধরন সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করেননি। হত্যাকাণ্ডে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও এখনো তদন্তাধীন।

অর্জুনের বাবা অরবিন্দ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু পর তাদের বাড়িতে অর্জুনের একজন গৃহশিক্ষক নির্ধারিত সাক্ষাতের জন্য আসেন। কিন্তু তিনি একাধিকবার বেল বাজিয়ে ও অর্জুনের মা কে ফোনে না পেয়ে বাড়িতে ঢুকতে ব্যর্থ হন।

পরে তিনি অর্জুনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর তিনি আতঙ্কিত হয়ে অ্যাকটন পুলিশ বিভাগে ফোন করে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ পাঠাতে বলেন।

অরবিন্দ জানান, ঘটনার দিন সকালে কাজে বের হওয়ার আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার দেখা হয়। আর তার ছোট ছেলে সিদ্ধার্থকে দুপুরের দিকে শেষবার বাড়ির বাইরে দেখা যায়।

রায়ান জানান, ঘটনাস্থলে সুধা ও সিদ্ধার্থের মরদেহ পাওয়া গেলেও অর্জুনকে না পাওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পাশাপাশি তার মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়িটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

বুধবার ভোরে ম্যাসাচুসেটসের ওয়েল্যান্ডে একটি পার্কিং এলাকায় অন্য একটি ঘটনায় সাড়া দিতে গিয়ে পুলিশ ওই গাড়িটি দেখতে পায়। অর্জুন সে সময় গাড়ির ভেতরেই ছিলেন। পরে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মিডলসেক্স কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরবর্তী তদন্তে দেখা গেছে, সম্প্রতি অর্জুনের আচরণে উদ্বেগের কারণ তৈরি হয়েছিল। তিনি ইন্টারনেট ও চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে নিজের পরিবারকে হত্যার বিভিন্ন তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পনা নিয়ে খোঁজ করছিলেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অর্জুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওই চ্যাটবটকে ‘গথিক উপন্যাসের মতো গল্প’ তৈরিতে সহায়তা করতে বলেছিলেন। তিনি হত্যার কৌশল সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করেছিলেন এবং কাল্পনিক চরিত্রও তৈরি করেছিলেন।

বুধবার অর্জুনকে লোয়েলের কিশোর আদালতে হাজির করার কথা ছিল। তবে কিশোর আদালতের হত্যার অভিযোগের বিচারিক এখতিয়ার নেই। তাই ওই হত্যা মামলার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হামলার অভিযোগগুলোতে পরে কনকর্ড জেলা আদালতে তাকে হাজির করা হবে।

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১৩ আগস্ট ২০২৬