সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে এতিমখানার সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় দুই সাংবাদিকের ওপর সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। গেল ১৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে সোনাইমুড়ী চৌরাস্তা এলাকার ‘চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টার’-এর ভেতরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই সাংবাদিক বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন— ‘দৈনিক নোয়াখালীর কথা’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার গোলজার হানিফ এবং ‘ভোরের চেতনা’ পত্রিকার সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি মো. মনিরুজ্জামান।
এ ঘটনায় ১৯ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানার মোহতামিম মো. শফিকুর রহমানকে প্রধান অভিযুক্ত করে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শফিকুর রহমান হেফাজতে ইসলামের নোয়াখালী জেলার নায়েবে আমীর ও সোনাইমুড়ী উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ ও থানা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সোনাইমুড়ী ফয়েজিয়া এতিমখানার মোহতামিম ও পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ভুয়া খরচের ভাউচার দেখিয়ে এতিমখানার সরকারি অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা প্রথমে সাংবাদিকদের আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার প্রস্তাব দেন। সেই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে চক্রটি।
হামলার শিকার সাংবাদিক গোলজার হানিফ জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার’ কথা বলে তাদের মুঠোফোনে কল করে চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারে ডেকে নেন অভিযুক্তরা। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে নুরুল আলম ও বাদশাসহ ১৫-২০ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অপর ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. মনিরুজ্জামান জানান, হামলার একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তার ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন এবং মানিব্যাগে থাকা নগদ প্রায় ১৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬