
যশোরের চৌগাছায় পৃথক ঘটনায় সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী ও এক সৌদি ফেরত ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ আগস্ট) উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর ও পাতিবিলা ইউনিয়নের রোস্তমপুর মাঠপাড়া গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—স্বরূপদাহ ইউনিয়নের ছোট কাকুড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে ইমা খাতুন (২১) এবং পাতিবিলা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৩৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংহঝুলী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী সিজার হোসেনের স্ত্রী ইমা খাতুন দুই বছরের একমাত্র মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে সিজারের বড় ভাই ঘরের দরজার কাছে যান। দরজা বন্ধ থাকায় ইমাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ইমার শ্বশুর জামায়াত আলীসহ পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ইমার দেহ দেখতে পান। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক ওবায়দুলকে দেখানো হলে তিনি মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিবেশীদের দাবি, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে ইমার বনিবনা ছিল না। এ কারণে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে তাদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে ইমার স্বামী সিজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, সোমবার সকালে পাতিবিলা ইউনিয়নের রোস্তমপুর মাঠপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে রবিউল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
তিনি তার মৌখিকভাবে তালাক দেওয়া স্ত্রী পারভিনা খাতুনের (২৩) শোবার ঘরের ছাদের পানির লাইনের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় রবিউল বেশ কিছু টাকা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে স্বজনদের দাবি। পরে দেশে ফিরে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী পারভিনাকে মৌখিকভাবে তালাক দেন।
তবে পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে রোববার গভীর রাতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন রবিউল। কিন্তু পারভিনা তার ডাকে সাড়া দেননি। এরপর অভিমান থেকেই তিনি সেখানে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের ধারণা, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনো একসময় রবিউল এ ঘটনা ঘটান। চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ পিপিএম বলেন, ময়নাতদন্ত ছাড়া দুজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

