➤ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হঠিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

আগামী দুই বছর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ নির্বাচনী ফলাফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের জয় এই সাফল্যের পথ তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর ডারলাইন গ্রাহামকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ১৯৯৮ সালের পর প্রায় তিন দশক পর এই প্রথম সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন।

সাউথ ক্যারোলাইনার এই আসনটি দীর্ঘদিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের দখলে ছিল। গত জুলাইয়ে তার মৃত্যুর পর বোন ডারলাইন গ্রাহাম দায়িত্ব পেলেও পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। 

অন্যদিকে, নর্থ ক্যারোলাইনাতেও রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সেখানে অঙ্গরাজ্যটির সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এখন থেকে নতুন আইন পাস এবং বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে হবে। 

এছাড়া সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো, তদন্ত শুরু করা এবং প্রয়োজনে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে।

নির্বাচনের এই ফলাফল প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ব্যালটে তার নাম ছিল না, তাই রিপাবলিকানদের এই পরাজয়ের দায় তার নয়। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোটা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা, যা তার বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়কে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে। ◉ 

নিউজ নাউ বাংলা/ এজেসি/ এফওয়াই/ এমআরকে/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬