ঢাকা: চাঁদপুর ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান মারা গেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বনানীর নিজ বাসভবনে তিনি হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুর আড়াইটার তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আবদুল হামিদ এবং মা আয়েশা খাতুন।
তিনি ১৯৬৫ সালে ফরিদগঞ্জ আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে ১৯৭০ সালে স্নাতক এবং ১৯৭১ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শফিকুর রহমান ১৯৬৫ সালে ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বীরত্বের সঙ্গে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় তার পেশাগত জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর ইত্তেফাকে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলামিস্ট হিসেবে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখে পাঠকমহলে পরিচিতি লাভ করেন।
সাংবাদিকতায় প্রশিক্ষণ নিতে তিনি জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে উচ্চতর পড়াশোনা করেন। তিনি ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া তিনি বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল সিটিজেন টিভির চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ এজেসি/ জেডআরসি/ ২৪ অক্টোবর ২০২৬