সৌদি আরবের রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক রক্তক্ষয়ী ও আকস্মিক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করেছে। কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে।
নিহতদের পরিচয় ও হতাহতের চিত্র
কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ভয়াবহ এই হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও রয়েছেন দুজন বাংলাদেশি। এছাড়া একজন করে মার্কিন, মিশরীয়, জর্ডানীয়, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিকও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে পবিত্র হজ পালনে মক্কাগামী বেশ কয়েকজন হজযাত্রীও রয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী এএফপিকে জানান, তিনি ৪০৩ নম্বর গেটে অবস্থান করার সময় ৪০১ নম্বর গেটে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানতে দেখেন। চোখের সামনে বহু মানুষকে আহত হতে এবং আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখেছেন বলে জানান তিনি।
যুদ্ধের অবনতি ও হুতিদের ধারাবাহিক আক্রমণ
ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে ভেঙে যায়। এরপর থেকেই হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে।
তবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষ সাধারণত প্রকাশ করতে চায় না; যে কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে হুতিদের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।
রিয়াদের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে। ‘গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় রেকর্ড সংখ্যক চিকিৎসককে জরুরি তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
এদিকে রিয়াদের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট জানায়, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেও একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। এরপর রোববার ভোরে রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে আরও একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করার কথা জানায় জোটটি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও হুতিরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল, যাতে তিনজন নিহত ও একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যদিও শনিবারের এই নতুন হামলার দায় হুতিরা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের বক্তব্য
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এর আগে সৌদি আরব হুতি দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিতে পারে।
শনিবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিতে পারে। তিনি আরও জানান, তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন এবং সৌদি আরবে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১১ অক্টোবর ২০২৬