অধ্যাপক জিনাত হুদার বহিষ্কারে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রতিবাদ
সমাজবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, আমাদের দৃঢ় অভিমত, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তের প্রাসঙ্গিকতা, প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য ভিন্ন মত দমন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। আমরা মনে করি, এই তদন্ত ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্পূর্ণভাবে অসত্য, ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির ফরমায়েসী প্রতিবেদনের মাধ্যমে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করা ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, শিক্ষকের মর্যাদা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জাতির বিবেক শিক্ষকেদের কণ্ঠরোধ করার একের পর এক অপচেষ্টা চলছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা, জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মতপ্রকাশের ঐতিহ্যগত কেন্দ্র। ভিন্নমতের জবাব হতে হবে যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার মাধ্যমে—প্রশাসনিক হয়রানি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নয়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ভিন্নমত দমনের মাধ্যমে নয়; ন্যায়, স্বচ্ছতা, যুক্তি ও মুক্তচিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সমুন্নত থাকে। কোনো শিক্ষককে তাঁর মত, বক্তব্য বা অবস্থানের কারণে হয়রানি করা হলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশের জন্য গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
আমাদের দাবি
১. অধ্যাপক ড. জিনাত হুদার সাময়িক বহিষ্কার অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
২. অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত এবং ট্রাইব্যুনাল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।
৩. প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
৪. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬