দেশের মূল্যবান ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সরকার গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত টানা ২২ দিন দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে সরকারি এই নিষেধাজ্ঞা ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে দেদারছে চলছে মা ইলিশ শিকার। 

শুধু তাই নয়, নদীপাড়ের অস্থায়ী বিভিন্ন হাটে প্রকাশ্যে সেই ইলিশ কেনাবেচা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।  এই অনিয়মের সত্যতা যাচাই করতে গত ১২ ও ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ উপজেলার মাছ ধরার বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। 

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুরো নদীজুড়ে কোনো লুকোচুরি ছাড়াই নির্বিঘ্নে হাজার হাজার জেলে মাছ শিকার করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলেরা সাধারণত রাতের বেলা নদীতে জাল ফেলেন, আর প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয় মূলত দিনে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান নিষেধাজ্ঞার সময়ে আগের তুলনায় নদীর বুকে জেলের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

অবৈধ মাছ শিকার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে ...
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিউজ নাউ বাংলাকে জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখের সামনে বাধাহীনভাবে মাছ শিকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান যে এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার হালিমা সরদার। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৩ অক্টোবর ভোররাতে জেলা মৎস্য অফিসার মো. মাহবুব উল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সিনিয়র সহকারী পরিচালক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার এবং পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।


এই অভিযানে আইন অমান্যের দায়ে ৯ জন আসামির বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।  ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোট ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।  প্রায় ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

দোষী সাব্যস্ত ৪ জনকে ২১ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।  অভিযানকালে জব্দকৃত ২০ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় সরকারি শিশু পরিবারে বিতরণ করা হয়েছে।

মৎস্য অফিসার হালিমা সরদার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানান, মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে এ ধরনের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।

নিউজ নাউ বাংলা/এমআরকে/  এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১৪ অক্টোবর ২০২৬