মাদক পাচারে নিত্যনতুন ও অভিনব কৌশল বেছে নিচ্ছে কারবারিরা। এবার নাফ নদীর পানির নিচ দিয়ে কাঠের তৈরি ‘সাবমেরিনসদৃশ’ বিশেষ কনটেইনার ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় ইয়াবা পাচারের একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

কক্সবাজারের উখিয়ায় অভিযান চালিয়ে এমন একটি ডুবন্ত কনটেইনারসহ ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা এবং পাচারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে ৬৪ বিজিবির আওতাধীন পালংখালী ও বালুখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আটক তিন ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১১ রাউন্ড গুলি, একটি বিশেষ ধরনের ডুবন্ত কনটেইনার, ৯টি কপিকল ও প্রায় দুই কিলোমিটার স্টিলের তার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি ও ইলেকট্রিক মোটর।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের মাদক কারবারিদের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বিজিবি।

কাঠের তৈরি বিশেষ সাবমেরিন তৈরি করে চলত ইয়াবা পাচার!
যেভাবে চলত এই ‘সাবমেরিন’ পাচার কৌশল
বিজিবির প্রাথমিক ধারণা ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। ইলেকট্রিক মোটর, স্টিলের তার ও কপিকলের সাহায্যে পরিচালিত এই বিশেষ ডুবন্ত কনটেইনারটি নাফ নদীর পানির নিচ দিয়ে চালনা করা হতো। নদী পার হয়ে ফাইস্যা খাল হয়ে কনটেইনারটি বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত ভেতরে নিয়ে আসা হতো।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া এই ধরনের একটি কনটেইনারে একসঙ্গে প্রায় ৩০ লাখ ইয়াবা পরিবহন করা সম্ভব। মাদক পাচারের এই অভিনব ও প্রযুক্তিগত কৌশল সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে এর আগেও মাদক পাচারে ভিন্নধর্মী কৌশল ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে। গত জুনে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির তথ্য পাওয়া যায় এবং সেপ্টেম্বরে নাফ নদীতে ভাসমান বস্তা থেকে ১৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। এবার পানির নিচে চলাচলকারী কনটেইনার উদ্ধারের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছে।

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ২২৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

সীমান্তে মাদকের এ ধরনের নজিরবিহীন ও ধূর্ত কৌশল মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬