কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রায় ৩৭টি ব্যাংকের এটিএম, কার্ড ও কিছু প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন সেবা টানা ছয় দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে এই বিরতি শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

তবে এ সময়ে ব্যাংকের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না। চেকের মাধ্যমে টাকা তোলা এবং ব্যাংক-টু-ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফারের মতো স্বাভাবিক ব্যাংকিং সেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসি।

আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসি বলছে, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন ও ব্যাংকিং প্রযুক্তি আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ করছে। এর ফলে কোম্পানিটির কিউ-ক্যাশের আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কার্ডভিত্তিক ও কিছু প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

এই সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা যাবে না। একইভাবে পয়েন্ট অব সেল বা পস মেশিনে কার্ড দিয়ে কেনাকাটাও করা সম্ভব হবে না। এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের আইবিএফটি সেবাও বন্ধ থাকবে। 

এ ছাড়া কার্ডের বিপরীতে চেক ব্যবহার, বাংলা কিউআর এবং এসব ব্যাংকের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসের মাধ্যমে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট সেবাও এই সময় বন্ধ থাকবে।

আইটি কনসালট্যান্টসের সিনিয়র অফিসার আব্দুর রহিম চরচাকে বলেন, “কিউ-ক্যাশ মেম্বার ব্যাংকগুলোর কার্ড, এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা, পয়েন্ট অব সেল বা পস মেশিনে কার্ড পাঞ্চ করে কেনাকাটা করা এবং এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সার্ভিস আইবিএফটি বন্ধ থাকবে। এছাড়া কার্ডের বিপরীতে চেক ব্যবহার, বাংলা কিউআর এবং যেকোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট কার্যক্রম এ সময় বন্ধ থাকবে।”

তবে এসব সেবার বাইরে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। আব্দুর রহিম বলেন, “তবে ব্যাংকের গ্রাহকরা চেকের মাধ্যমে টাকা তোলা, ব্যাংক টু ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার ইত্যাদি যথারীতি চলবে।”

ছবি: সংগৃহীত
যেসব ব্যাংকের সেবা বন্ধ থাকবে
কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত মোট ৩৭টি ব্যাংকের গ্রাহকরা এই সাময়িক সেবা বিঘ্নের মধ্যে পড়বেন। তালিকায় দেশের কয়েকটি বড় সরকারি ব্যাংকও রয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল), কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, কমিউনিটি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকও এই তালিকায় রয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

 এ ছাড়া উরি ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, এনসিসি ব্যাংক, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন্স ব্যাংকের গ্রাহকরাও একই ধরনের সেবা বিঘ্নের মুখে পড়বেন।

তাই এই ৩৭ ব্যাংকের যেসব গ্রাহক নিয়মিত এটিএম থেকে নগদ টাকা তোলেন, কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটা করেন কিংবা বাংলা কিউআর, আইবিএফটি ও এমএফএসের মাধ্যমে লেনদেন করেন, তাদের ছয় দিন বিকল্প ব্যবস্থায় কাযক্রম চালাতে হবে।

আগে জানানো হয়নি বাংলাদেশ ব্যাংককে
আইটি কনসালট্যান্টসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন প্রযুক্তিতে নেটওয়ার্ক স্থানান্তর বা সিস্টেম মাইগ্রেশনের অংশ হিসেবে এই ডাউনটাইম নেওয়া হচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তবে এই সাময়িক সেবা বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। তাই এসব ব্যাংকগুলোর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।”

নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ০৬ অক্টোবর ২০২৬