সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত তিন জাতি ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। 

আবুধাবির জায়েদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই দিবারাত্রির ম্যাচে জিম্বাবুয়ের ছুঁড়ে দেওয়া ২৭১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ দলের ইনিংস।

এই হারের মাধ্যমে সবশেষ পাঁচ ওয়ানডে ম্যাচের চারটিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ চার ম্যাচের মধ্যে এটি তৃতীয় হার।

ম্যাচ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা

ম্যাচ শুরুর ঠিক আগেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ শিবির। নিতম্বের চোটে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যান নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ফলে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের ব্যাটন ওঠে তরুণ ব্যাটার তৌহিদ হৃদয়ের হাতে। 

অধিনায়ক হিসেবে ১৮তম বাংলাদেশি হিসেবে তাঁর অভিষেক হলেও পথচলার শুরুটা মোটেও সুখকর হলো না। এছাড়া অসুস্থতার কারণে একাদশে রাখা সম্ভব হয়নি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজকেও। 

শুরুতেই তানজিদের ঝোড়ো সূচনা, তারপরই ধস

২৭২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় বাংলাদেশ। তানজিদ সতর্ক হওয়ার বদলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬ ওভারে দলীয় রান নিয়ে যান ৪৭-এ। সপ্তম ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সৌম্য সরকার (৯) ফেরার পর নিউম্যান নিয়ামুরির বলে আলতো শট খেলে বিদায় নেন তানজিদ। ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন তিনি।

তানজিদের বিদায়ের পর আর কোনো ব্যাটার ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। পরের ওভারেই ব্র্যাড ইভান্সের বলে এলবিডব্লিউ হন নাজমুল হোসেন শান্ত (৪)। তৌহিদ হৃদয় (১৩) ও সাইফ হাসান (২৬) প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও স্পিন আক্রমণ আসতেই খোলসে ঢুকে পড়েন। 

সিকান্দার রাজার বলে হৃদয় এলবিডব্লিউ হওয়ার পর ওয়েলিংটন মাসাকাদজার স্পিনে একে একে বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত (১১) ও সাইফ হাসান। ১২৯ রানেই ৭ ব্যাটার বিদায় নিলে লড়াই থেকে পুরোপুরি ছিটকে পড়ে দল। রিশাদ হোসেনের ২৩ রানের সৌজন্যে পরাজয়ের ব্যবধান কিছুটা কমে মাত্র। 

হারে শুরু ত্রিদেশীয় সিরিজ

টেইলর-আরভাইন জুটিতে জিম্বাবুয়ের শক্ত ভিত

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের সূচনাটাও ভালো ছিল না। তাসকিন আহমেদের তোপ সামলাতে না পেরে ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় দলটি। তাসকিন তাঁর প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট।

তবে চতুর্থ উইকেটে জোড়া পান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেইলর ও ক্রেইগ আরভাইন। দুজনে মিলে ১৭৬ বলে ১৫০ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি এনে দেন। 

এই ইনিংস খেলার পথেই জিম্বাবুয়ের ওয়ানডে ইতিহাসে অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে (৬,৭৮৬ রান) টপকে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক হওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেন ৪০ বছর বয়সী টেইলর। তিনি ১০১ বলে ৮০ রান করে সাইফ হাসানের বলে আউট হন।

অন্যপ্রান্তে ক্রেইগ আরভাইন শেষ পর্যন্ত ৯৩ রান করে শরিফুল ইসলামের শিকার হন। শেষ চার ওভারে শ্রীলঙ্কান ধাঁচে ব্যাট চালিয়ে মাসাকাদজা (২১*) ও নিয়ামুরি (২১*) অবিচ্ছিন্ন ২৬ বলে ৩৭ রান যোগ করলে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৭১ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে ৩টি এবং শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান ২টি করে উইকেট নেন। দারুণ ব্যাটিংয়ের জন্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ক্রেইগ আরভাইন।

পরবর্তী সূচি

ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার এই জায়েদ স্টেডিয়ামেই আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে। আর বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচে আগামী বুধবার শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৫০ ওভারে ২৭১/৮ (আরভাইন ৯৩, টেইলর ৮০, নিয়ামুরি ২১*, মাসাকাদজা ২১*; তাসকিন ৩/৪৪, শরিফুল ২/৪৭, সাইফ ২/১৭)।

বাংলাদেশ: ৩৩.৪ ওভারে ১৭২/১০ (তানজিদ ৪৬, সাইফ ২৬, রিশাদ ২৩; ইভান্স ৪/৪৫, মাসাকাদজা ২/১৮, রাজা ২/২৮)।

ফল: জিম্বাবুয়ে ৯৯ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: ক্রেইগ আরভাইন

নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬