ঢাকা: দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন শুরু হবে। শেষ ধাপের ভোট হবে ২৭ মে।  

সোমবার (১২ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপে ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, চলতি বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি)
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ৪ হাজার ৫৮৫টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে।  দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে, রাঙামাটি জেলার সাজেক ইউনিয়ন (আয়তনের দিক থেকে) এবং সাভারের ধামসোনা ইউনিয়ন (জনসংখ্যার দিক থেকে)।  

অন্যদিকে, দেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন হচ্ছে, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুতালাড়ী ইউনিয়ন।  ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন সাধারণ সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ১৩ জন নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন সংশোধন করে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা পায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

যেভাবে পদ বাতিল বা পরিবর্তন হয়েছিল:
• অধ্যাদেশ প্রণয়ন: সরকার জনস্বার্থে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও উপজেলা পরিষদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার আইন সংশোধনের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগ ও জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের পথ সুগম করে।

• আইন সংশোধন: পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ সংশোধন করে আইন পাস করা হয়, যেখানে সরকারকে জনস্বার্থে যেকোনো সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়।

• প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি ও সংকট: ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর অধিকাংশ ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধি কর্মস্থলে অনুপস্থিত বা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় দাপ্তরিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে বিকল্প ব্যবস্থায় বা আইনি সংশোধনী ও আদেশের মাধ্যমে এসব পদে পরিবর্তন আনা হয়।

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১২ অক্টোবর ২০২৬