দেশে একই সঙ্গে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি। একদিকে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকা, অন্যদিকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশজুড়ে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই প্রকোপে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে (ডেঙ্গুতে ৬ জন এবং হামের উপসর্গে ৮ জন)। এ সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৭১৭ জন রোগী।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি: ঢাকার বাইরে ছড়াচ্ছে উদ্বেগ
ডেঙ্গুর প্রকোপ রাজধানী ছাড়িয়ে অন্যান্য বিভাগেও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৬০৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। তবে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম (৩১৯ জন), খুলনা (২৭৬ জন) ও বরিশাল (২১৫ জন) বিভাগের হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও রংপুরেও রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৯ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১৪৮ জন, যা এ বছর এক মাসে সর্বোচ্চ।

বছরজুড়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৮ হাজার ৪৮২ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১,৬২১ জন)।

dengue.webp 54.14 KB
হাম পরিস্থিতি: উপসর্গে মৃত্যুর হার বাড়াচ্ছে শঙ্কা
ডেঙ্গুর পাশাপাশি দেশে হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকোপে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত আক্রান্তের চেয়ে প্রায় নয় গুণ বেশি।

শনিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা না গেলেও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১০৯ জন, যার মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮২ জনের।

গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে ২১ হাজার ৬৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২ লাখ মানুষ (১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ জন)।

এখন পর্যন্ত দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন মারা গেলেও, উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে (১,০২০ জন)। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৪ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৫৬ জন।

সার্বিক বিশ্লেষণ
বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ডেঙ্গু ও হাম—এই দুটি রোগ দ্বিমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আগস্টের (৪৩ জন মৃত্যু) তুলনায় সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর হার (১৪৮ জন) তিন গুণের বেশি বেড়েছে এবং ঢাকার বাইরে রোগের বিস্তৃতি ঘটেছে। এটি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রচলিত পদ্ধতিগুলোর সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করছে।

অন্যদিকে, হামের ক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক মানুষের শুধু 'উপসর্গ' নিয়ে মৃত্যু (১,০২০ জন) প্রমাণ করে যে, রোগ শনাক্তকরণের বাইরে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়ে যাচ্ছে। এটি প্রতিরোধযোগ্য রোগের টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দ্রুত নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬