Monday, 28 September 2026 Breaking News
ঘরোয়া ক্রিকেটে রং ফেরানোর প্রতিশ্রুতি, হবে তিন সংস্করণের ‘ডি থ্রি’ ট্রফি

ঘরোয়া ক্রিকেটে রং ফেরানোর প্রতিশ্রুতি, হবে তিন সংস্করণের ‘ডি থ্রি’ ট্রফি

28 September 2026 · Lead

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বিপিএল ছাড়া অন্য কোনো টুর্নামেন্ট নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা বা জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের দেখা সাধারণত মেলে না। গ্যালারির শূন্যতা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব—এই আক্ষেপ ঘোচাতেই এবার নতুন এক কাঠামোর ঘোষণা দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল পরিচয় করিয়ে দিলেন নতুন টুর্নামেন্ট ‘ডি থ্রি’ বা ডমেস্টিক থ্রি ট্রফির। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে শুরু হতে যাচ্ছে ছয় দলের এই নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি অধ্যায়।

যে কারণে এই নতুন টুর্নামেন্ট
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল সরাসরিই স্বীকার করে নেন ঘরোয়া ক্রিকেটের বর্তমান চিত্র। তিনি বলেন, “অনেক সময়াই সবাইকে বলতে শুনি, ঘরোয়া ক্রিকেট রং হারিয়েছে, ইন্টারেস্ট নেই… ওই রং, ওই ইন্টারেস্ট আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই।” মূলত সেই হারানো রং ফেরাতেই এই অভিনব উদ্যোগ, যেখানে একই দল চার দিনের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ক্রিকেট এবং টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই অংশ নেবে।

এর ফলে আগের কাঠামোয় থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) ও জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টি বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মূল আসর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) এবং লিস্ট ‘এ’ আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) আগের মতোই বহাল থাকবে।

মালিকানায় বোর্ড কর্তারাই, চূড়ান্ত আইকন ক্রিকেটার
‘ডি থ্রি’ ট্রফিতে দল নিতে আটটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও তিন বছরের জন্য মালিকানা পেয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান—এইস ব্লুস্টার, ওয়ালটন গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, একমি গ্রুপ, সেভেন রিংস সিমেন্ট ও ফরচুন গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানের নামেই দলগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। তবে এখানেও স্বার্থের সংঘাতের একটি বিষয় স্পষ্ট—ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে তিনটির (একমি গ্রুপ, ফরচুন গ্রুপ ও এইস ব্লুস্টার) মালিকানায় রয়েছেন বিসিবিরই তিন পরিচালক ফাহিম সিনহা, মিজানুর রহমান এবং শানিয়ান তানিম।

লটারির মাধ্যমে ছয়টি দল এরই মধ্যে তাদের আইকন ক্রিকেটারদের নাম ঘোষণা করেছে। এইস ব্লু স্টার: নুরুল হাসান সোহান, ওয়ালটন গ্রুপ: মেহেদী হাসান মিরাজ, সেভেন রিংস সিমেন্ট: মুশফিকুর রহিম, একমি গ্রুপ: মোসাদ্দেক হোসেন, ফরচুন গ্রুপ: তাওহিদ হৃদয়, সিটিজেন ব্যাংক: মোহাম্মদ নাঈম শেখ।

ডি-৩ মঞ্চে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল
দল গঠন ও সূচি
আগামী ২৬ অক্টোবর প্লেয়ার্স ড্রাফট বা নিলামের মাধ্যমে দল গোছাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তিন সংস্করণের কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি দল ২৩ জনের স্কোয়াড তৈরি করবে। এমনকি কোচ, ফিজিও, ট্রেনার ও অ্যানালিস্ট বাছাইয়ের জন্যও মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে ‘ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট’। ক্রিকেটারদের তিন বছরের চুক্তিতে নেওয়া হলেও প্রতি মৌসুমের আগে ‘মিনি অকশন’ এবং দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে খেলোয়াড় বিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

টুর্নামেন্টটি মাঠে গড়াচ্ছে আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখে, বরিশালে টি-টোয়েন্টি আসরের মধ্য দিয়ে। এরপর জানুয়ারিতে হবে চার দিনের ম্যাচ এবং আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে ৫০ ওভারের লড়াই। তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ৪২টি ম্যাচ খেলা হবে (১৯টি টি-টোয়েন্টি, ১৬টি একদিনের ম্যাচ এবং ৭টি চার দিনের ম্যাচ)।

আর্থিক কাঠামো ও সাশ্রয়ের অঙ্ক
টুর্নামেন্টের সব ক্রিকেটার সমান পারিশ্রমিক পাবেন। বিসিবির সদ্য ঘোষিত আর্থিক কাঠামো অনুযায়ী ম্যাচ ফি নির্ধারিত হয়েছে—প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেড় লাখ, একদিনের ম্যাচে এক লাখ এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা।

আর্থিক ব্যবস্থাপনার দিক থেকে এই মডেল বিসিবির জন্য বেশ লাভজনক। প্রতিটি দল বছরে আড়াই কোটি টাকা করে বিসিবিকে দেবে, বাকি খরচ বোর্ড বহন করবে। এর বিপরীতে স্পনসরশিপ এবং টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত আয়ের ৫০ শতাংশ পাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তামিম ইকবালের মতে, দলগুলোর মালিকানা ভাগ হয়ে যাওয়ায় ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনে বিসিবির প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

বোর্ডের নতুন দর্শন
প্রথম বছরে ইভেন্ট পরিচালনার কারণে খরচ কিছুটা বেশি হলেও টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক ও মাঠের সাফল্য নিয়ে আশাবাদী বোর্ড। তবে টুর্নামেন্ট যদি আশানুরূপ সফল নাও হয়, তাতেও পিছু হটতে রাজি নন বিসিবি সভাপতি। নিজের এবং বোর্ডের মানসিকতা স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেই যাব। জানি না সফল হব কি না, তবে একটা ব্যাপার নিশ্চিত—আমি ও আমার বোর্ড ব্যর্থতাকে ভয় করে না। আমরা চেষ্টা করতেই থাকব। যদি ব্যর্থ হই, ওখান থেকে শিখব এবং আবার কিছু চেষ্টা করব। এটাই আমাদের বোর্ডের নীতি।” 

নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬