ঢাকা: চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবারের ফলে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। গেল বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবারে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফল ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। উপদেষ্টার পাশেই ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এবারে চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০.৯০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ পাস করেছে।

চলতি বছরের গত ২ জুলাই সারা দেশে একযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়।

এরপর ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করে পরে তা নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের উল্লাস
জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় অর্ধেক
প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, পাস করেছে ৫২.১২ শতাংশ শিক্ষার্থী। গত বছর এ হার ছিল ৫৮.৮৩ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে প্রায় অর্ধেক। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় ২৯ হাজার ১৩ জন কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১।

যেভাবে জানা যাবে ফল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে https://eduboardresults.gov.bd এবং https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে হবে। এ ছাড়া নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।

ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর পরীক্ষার নাম, শিক্ষা বোর্ড এবং পরীক্ষার বছর নির্বাচন করতে হবে। এরপর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফল দেখা যাবে।

অন্যদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইটের ‘Result’ বিভাগে গিয়ে নিজ নিজ বোর্ড নির্বাচন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তকরণ নম্বর (ইআইআইএন) ব্যবহার করে ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা সরাসরিও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

এসএমএসে ফল জানার নিয়ম
মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়েও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানা যাবে। এজন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে HSC লিখতে হবে। এরপর একটি স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিনটি ইংরেজি অক্ষর, রোল নম্বর এবং পরীক্ষার বছর লিখতে হবে। প্রতিটি তথ্যের মধ্যে একটি করে স্পেস দিতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, HSC DHA 183456 2026 লিখে পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে।

আলিম পরীক্ষার্থীরা যেভাবে ফল দেখবেন
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এ অনলাইন সেবা-১ কর্নারে আলিম পরীক্ষা ২০২৬-এ ক্লিক করে অথবা www.ebmeb.gov.bd তে Alim eRPS 2026 সিলেক্ট করে Continue বাটন-এ ক্লিক করে জেলার কেন্দ্রভিত্তিক মাদ্রাসার Result Sheet downlaod করা যাবে।

ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন
পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ এমআরকে/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬