সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়ার প্রস্তুতি এগিয়ে গেলেও অপেক্ষা বাড়ছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের। তাঁদের নতুন পে স্কেলের আওতায় আনতে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির কথা থাকলেও এখনো সেটি প্রকাশ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতন নবম পে স্কেল অনুযায়ী নির্ধারণের কাজ চলছে। সব কার্যক্রম সময়মতো শেষ হলে নভেম্বরের শুরুতে তাঁরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে নতুন কাঠামোর বাড়তি অর্থ পাবেন। পাশাপাশি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া অর্থও পরিশোধের কথা রয়েছে।
অন্যদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণে এখনো পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় তাঁদের নতুন কাঠামোর বেতন পাওয়ার সময় নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নবম পে স্কেলের সুবিধা পাবেন। তাঁদের বেতনও গত ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী হিসাব হওয়ার কথা। তবে সুবিধাটি কার্যকর করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৭ হাজার। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করতে হওয়াও প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক এক বিবৃতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য দ্রুত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রায় ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে নবম জাতীয় পে স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
অনিশ্চয়তা মূলত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ ও বর্ধিত বেতন হাতে পাওয়ার সময় নিয়ে। সরকারি চাকরিজীবীরা অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে নতুন স্কেলের অর্থ পাওয়ার পথে এগোলেও এমপিওভুক্তদের ক্ষেত্রে অপেক্ষা নভেম্বর বা ডিসেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
নিউজ নাউ বাংলা/ এমআরকে/ জেডআরসি/ ০৫ অক্টোবর ২০২৬