ধুঁকছে দেশের স্বাস্থ্যখাত:
- ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় দুই হাজার; বছরজুড়ে প্রাণহানি ৪২৭
- হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হাজার ছাড়াল: ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন সন্দেহভাজন ১৩৫৩
➤ দেশে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর লাগামহীন বিস্তারের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু ও হামের এই জোড়া ধাক্কায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি চরম উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এই দুই প্রাদুর্ভাবে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন; যার মধ্যে ৮ জন ডেঙ্গুতে এবং ২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: এক দিনেই ভর্তি ১৯২৯
রোববার (০১ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালগুলোতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২৯ জন রোগী, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের ইঙ্গিত দেয়।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। এ বছর ডেঙ্গুর আঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ৪২৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর এ সময়ে মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯২৯ জন।
হাম ও উপসর্গের প্রকোপ: মৃত্যু ছাড়াল ১২০০
ডেঙ্গুর পাশাপাশি সারা দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাবও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পৃথক বার্তায় জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশু দুটির অবস্থান সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু নথিভুক্ত হয়নি।

আক্রান্তের দিক থেকেও পরিস্থিতি নাজুক। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৪ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা নিয়ে চলতি বছর মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৩ হাজার ৯৩৫ জনে। একই সঙ্গে গত এক দিনেই নতুন করে ১ হাজার ৩৫৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে দেশে বর্তমানে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ১৩ জনে।
ডেঙ্গু ও হামের মতো জোড়া ব্যাধির এই যুগপৎ বিস্তার প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এডিস মশক নিধন এবং তৃণমূল পর্যায়ে টিকাদান ও নজরদারি কর্মসূচি আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ◉
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ এমআরকে/ ০২ নভেম্বর ২০২৬