ঢাকা: একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিরোজপুরে। জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু ও পরবর্তীতে তার শেষকৃত্যে বাধা দেওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক শোক ও প্রতিবাদ লিপি প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে শিক্ষকরা প্রথমে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এরপর দাফন প্রক্রিয়ায় জামায়াতের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, "যিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় নিজের জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। মৃত্যুর পর তার মর্যাদাপূর্ণ শেষ বিদায় নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও মানবিক কর্তব্য।"
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা কেবল অমানবিকই নয়, বরং তা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম পরিপন্থী। স্বাধীন দেশে এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষকরা বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে এবং যারা এই অবমাননাকর কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
পরিশেষে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে দলমত নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিক ও শ্রেণিপেশার মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ এজেসি/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬