ঢাকা: “শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য নয়; জ্ঞানার্জন করতে হবে, জানতে হবে নতুন বিষয়। মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানভীতি দূর করে আবিষ্কারের নেশায় মেতে উঠতে হবে। মনে রাখবে, আজকের কৌতূহলী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, গবেষক ও উদ্ভাবক।”

রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে (বিএনএমপিসি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বিএনএমপিসি ন্যাশনাল সায়েন্স কার্নিভাল-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে এমন উদ্দীপনামূলক বার্তা দিয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

বিপুল উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে গত ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) শুরু হওয়া এই বিজ্ঞান মহাযজ্ঞ চলবে ৩১ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত। দেশের স্বনামধন্য প্রায় ১৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পিলখানাস্থ কলেজ প্রাঙ্গণ এখন মুখরিত ক্ষুদে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের পদচারণায়।

ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের মেলা ও বৈচিত্র্যময় আয়োজন
এবারের সায়েন্স কার্নিভালে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০০টি উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট প্রদর্শিত হচ্ছে। পরিবেশ সুরক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট কৃষি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং তথ্যপ্রযুক্তির নানাবিধ ব্যবহার নিয়ে বাস্তবভিত্তিক সমাধান তুলে ধরেছে শিক্ষার্থীরা।

প্রজেক্ট প্রদর্শনী ছাড়াও বিজ্ঞান উৎসবকে প্রাণবন্ত করতে আয়োজন করা হয়েছে পদার্থ, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞানের অলিম্পিয়াড, দেওয়াল পত্রিকা (ওয়াল ম্যাগাজিন) প্রদর্শনী, উপস্থিত বক্তৃতা, অ্যানালিটিক্যাল কুইজ প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞানভিত্তিক গল্প লিখন এবং কম্পিউটার গেমিংসহ নানা প্রতিযোগিতা। মেধা যাচাইয়ের এসব আয়োজনে রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর ও ফোর-ডি মুভি বাস—বিশেষ আকর্ষণ

কার্নিভালের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের বিশেষ ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানের বাস্তব ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে কলেজ মাঠে নিয়ে আসা হয়েছে জাদুঘরের একটি অত্যাধুনিক ‘ফোর-ডি (4D) মুভি বাস’ এবং একটি ‘মিউজিয়াম বাস’। 

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থ্রি-ডি ও ফোর-ডি প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশবিজ্ঞান ও জীবজগতের রহস্য অবলোকন করছে, যা নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

‘পরীক্ষাকেন্দ্রিকতা ছাড়িয়ে গবেষণায় জোর দিতে হবে’
কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরো প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বিভিন্ন স্টলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত প্রজেক্ট দেখেন এবং তাদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “বিজ্ঞানের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে প্রশ্ন করার মাঝে। পাঠ্যবইয়ের মুখস্থ বিদ্যা বা কেবল সনাতন পরীক্ষার প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। বিজ্ঞানকে ভালোবেসে জানার পরিধি বাড়াতে হবে। বর্তমান বিশ্ব প্রতিনিয়ত প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে; এই বাস্তবতায় আমাদের তরুণ প্রজন্মকেই গবেষণার পথে এগিয়ে আসতে হবে। তোমাদের উদ্ভাবনী শক্তির হাত ধরেই বাংলাদেশ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।”

আলোচনা সভায় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, শনিবার সমাপনী দিনে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হবে।

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ এমআরকে/ ৩০ অক্টোবর ২০২৬