Monday, 28 September 2026 Breaking News
সর্বশ্রেষ্ঠ সীমান্তরক্ষী বাহিনী হবে বিজিবি: প্রধানমন্ত্রী

সর্বশ্রেষ্ঠ সীমান্তরক্ষী বাহিনী হবে বিজিবি: প্রধানমন্ত্রী

18 December 2019 · বাংলাদেশ

শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবিকে চেইন অব কমান্ড মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতির পিতার অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সততার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ব্রিটিশ শাসনাবসানের পর থেকে সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি। ১৭৯৫ সালে রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন থেকে ২০১০ এ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দুই বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ও মুন্সী আব্দুর রউফসহ ৮ বীর উত্তম, ৩২ বীর বিক্রম ও ৭৭ বীর প্রতীক ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনীর গর্বিত সদস্য। বিজিবি দিবসে বাহিনীর সদর দফতরে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেন অনুষ্ঠানে। বিউগলের তুর্য নিনাদে বাহিনীর চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম ও অভিবাদনে বরণ করে নেয় প্রধান অতিথিকে। বিজিবি প্রধানকে নিয়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। বীরত্ব ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বাহিনীর মেধাবী ৬০ কর্মকর্তাকে বিজিবিএম, পিবিজিএম,বিজিবিএমএস ও পিবিজিএমএস পদক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের সীমান্ত রক্ষায় অবদানের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিজিবি বাহিনীর সদস্যরা সীমান্ত রক্ষায় বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।বিজিবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যরা শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, তারা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এবং দেশের প্রয়োজনে যেকোনও সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যবস্থাপনা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চোরাচালান, মাদক, সন্ত্রাস, অবৈধ অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে বন্ধ করবেন। এক্ষেত্রে কোনও ছাড় দেবেন না।’ ’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিজিবিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়ন করে গড়ে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় যাওয়ার জন্য বিজিবিকে দুটি স্পেশাল হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সরবরাহ করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য চুয়াডাঙ্গায় আরেকটি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট করা হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্যের হার পাঁচ ভাগে নামিয়ে এনেছি। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আমরা সবার বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিয়েছি। আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের আর ভিক্ষা চেয়ে চলতে হয় না। কিন্তু স্বাধীনতার পরপর এই অবস্থা আমাদের ছিল না। অনেক চড়াই-উৎড়াই পার হয়ে আজ আমরা এই অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। কাজেই এটি আমাদের ধরে রেখে এগিয়ে যেতে হবে।’ বিজিবি’র উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আপনারা এই দেশকে ভালোবাসবেন। দেশের মানুষের প্রতি কর্তব্য পালন করবেন। দেশ যদি উন্নত হয়, তাহলে আপনাদের পরিবার পরিজনের উন্নতি হবে, দেশের মানুষের উন্নতি হবে।’ দেশ প্রেম ও আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে একদিন বিজিবি বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাহিনীর মর্যাদা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। পরে ডগ মার্চ, ট্রিক ড্রিল ও মোটর র‌্যালী সহ বিজিবির বিশেষ আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।