Monday, 28 September 2026 Breaking News
শাড়ি লেহেঙ্গা আমদানিতে শুল্কসহ সর্বোচ্চ ১২শ টাকা খরচ, বিক্রি লাখ টাকায়

শাড়ি লেহেঙ্গা আমদানিতে শুল্কসহ সর্বোচ্চ ১২শ টাকা খরচ, বিক্রি লাখ টাকায়

11 March 2025 · বাংলাদেশ

ট্যারিফ কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের বাজারে প্রাপ্ত শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গাজাতীয় পণ্য মূলত ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে।

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শাড়ি, থ্রি-পিস ও অন্যান্য পোশাকের বাজার সংরক্ষণে বিদেশী কাপড় ও পোশাক আমদানিতে শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। সংস্থাটি বলছে, দেশে ধারাবাহিকভাবে শাড়ি ও থ্রি-পিস বা লেহেঙ্গা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি পিস গড় শুল্কমূল্য হিসাব করলে দেখা যায়, আমদানিস্থলে ঘোষিত মূল্য কম। দেশের বাজারে কোনো কোনো বিদেশী শাড়ি ও লেহেঙ্গা লাখ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ ভারত থেকে আমদানি করা শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা জাতীয় পণ্য শুল্কসহ সর্বোচ্চ ১২শ টাকা খরচ পড়ছে। অন্যদিকে যা বৈধভাবে আমদানি হচ্ছে, স্থানীয় বাজারে তার চেয়ে বেশি সরবরাহ হয়েছে, যার সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি বা চোরাচালানের যোগসূত্র রয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের বাজারে প্রাপ্ত শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গাজাতীয় পণ্য মূলত ভারত থেকে আমদানি হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তার চাহিদানুযায়ী ভারতীয় পণ্য বলে বাজারজাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ ধরনের পণ্য ভারত থেকে কী পরিমাণ আমদানি হয়েছে এবং প্রতি ইউনিটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে যে পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা বিক্রি হয়, সে তুলনায় বৈধভাবে আমদানির পরিমাণ বেশ কম। এসব শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা আমদানি পর্যায়ে যে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ঘোষিত হয় তা বাজারজাতকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম। এক্ষেত্রে শুল্ক মূল্যায়নসংক্রান্ত বিধিমালার যথাযথ প্রয়োগের অবকাশ রয়েছে, যাতে শুল্কমূল্যে প্রকৃত মূল্যকে প্রতিফলিত করে।

মিথ্যা ঘোষণা বা চোরাচালানের মাধ্যমে এসব পণ্যের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ দেশীয় বাজারে প্রবেশ করছে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় আমদানি পর্যায়ে শুল্কায়নযোগ্য মূল্য যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক তা নির্ধারণ, আমদানিকারক কর্তৃক বা ব্যাগেজে আনীত ও ঘোষিত পরিমাণ যথাযথভাবে যাচাই এবং সীমান্তে এসব পণ্যের অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।

চোরাচালান বা শুল্কফাঁকি দেয়া পণ্য জব্দ করতে গত ৫ আগস্টের পর দেশের কোনো শপিং মল বা মার্কেটে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি বলেন স্বীকার করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মুসফিকুর রহমান। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে শিশু, বয়স্ক ও বৃদ্ধ ক্যাটাগরিতে পোশাক বা কাপড় আমদানি হয়ে থাকে। অনেক সময় আমদানিকারকরা ক্রয়মূল্যের চেয়ে কম মূল্য প্রদর্শন করেন। প্রাইসিং পলিসি অর্থাৎ, এইচএস কোড ও ভ্যালুয়েশন পুনর্মূল্যায়ন করা দরকার।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন সদস্য বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অন্য অনেক দেশের মতো পণ্য রফতানিকারক দেশে মূল্য যাচাই করার ব্যবস্থা আমাদের নেই। আমরা শুল্ক বিভাগের অফিশিয়ালদের গুরুত্বপূর্ণ আমদানি উৎস দেশের মিশনে এ-সংক্রান্ত পদ রাখার চেষ্টা করলেও তা অনুমোদন পায় না।’

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত জামদানি, বেনারসি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, রেশমি, মণিপুরী শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি-পিস ও অন্যান্য পোশাকের বাজার সংক্ষরণের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনে অবেদন করেছে বাংলাদেশ জামদানি ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে কাপড়ের চাহিদা, আমদানির পরিমাণ, আমদানি শুল্কহার এবং কাপড় আমদানিতে বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে কমিশন।