Monday, 28 September 2026 Breaking News
রামেক হাসপাতালে তিন মাসে ৮৭১ শিশুর মৃত্যু

রামেক হাসপাতালে তিন মাসে ৮৭১ শিশুর মৃত্যু

26 April 2026 · বাংলাদেশ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে তিন মাসে মারা গেছে ৮৭১ শিশু। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ শিশুর প্রাণহানি। এরমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৫২ শিশুর।

রাজশাহী মেডিকেলে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

এই বছরের জানুয়ারিতে ভর্তিকৃত ৩৭৩৫ জন শিশুর মধ্যে মারা গেছে ২৭৬ জন। ফেব্রুয়ারিতে ৪২৫৭ জন শিশুর মধ্যে মারা গেছে ২৯১ জন। মার্চে ৪৫২২ জন শিশুর মধ্যে মারা গেছে ৩০৪ জন। এরমধ্যে হামের উপসগ নিয়ে ৫২ শিশুর মৃত্য হয়।

➤➤ চট্টগ্রামে নিউমোনিয়ায় ২০ দিনে ২৬ শিশুর মৃত্যু

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় ১২ হাজার ৫১৪ শিশুকে। এই সময়ে মারা গেছে ৮৭১ শিশু। এরমধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু অর্ধশতাধিক।

এক শিশুরোগীর বাবা বলেন, ‘আমার বাচ্চার ওরকম কিছু হয়নি। অনেক বাচ্চা দেখলাম হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে আছে। আরেক অভিভাবক বলেন, ‘নার্সের কাছে যাইয়া অনেকক্ষণ যাবৎ সিরিয়াল দিয়া চিকিৎসার ব্যবস্থা করা লাগছে।’

রোগতত্ত্ববিদরা বলছেন, হামের উপসর্গ থাকলেও মৃত্যু হয়েছে অন্য ভাইরাস সংক্রমণে। তবে নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করতে পারেননি তারা।

রামেকের ভাইরোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ব্যাকটেরিয়াগুলো, এগুলো মাল্টি ড্রাগ রেজিসটেন্টস বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্যান ড্রাগ রেজিস্ট্যান্টস।

মানে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকে তারা রেজিস্ট্যান্টস। এর ফলে নিউমোনিয়া হচ্ছে। নিউমোনিয়া হয়ে মারা যাচ্ছে। কিন্তু এটার প্রাথমিক কারণ হাম। কিন্তু মারা যাচ্ছে সে নিউমোনিয়াতে।’

হাসপাতালে অধিকাংশ শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। তাদের অনেককে ওয়ার্ডে চিকিৎসার পর আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। হামের উপসর্গ ধরা পড়লে নমুনা পাঠানো হচ্ছে ঢাকায়।

রামেকের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, ‘যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের কারও শরীরেই কিন্তু আমরা হামের জীবাণু শনাক্ত করতে পারিনি। এই কাজটি করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি দল।

এখানে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। তারা তাদের মতো করে স্যাম্পল গ্রহণ করছেন। সেটি ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। সেখান থেকে যে রিপোর্ট আসছে সেটি আমাদেরকে উনারা জানিয়ে দিচ্ছেন।’

➤➤ টিকা সংকটে ম্লান দীর্ঘ সাফল্য, হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের শুরুতে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে চালু করা হয় আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড। পুরো বিভাগে ৬৬ শিশু মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরটরিতে আমাদের স্যাম্পলগুলো পাঠানো হয়। সে প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের তথ্যগুলো দিয়ে থাকি।’

এদিকে পরিস্থিতি অবনতির কারণে রাজশাহী মেডিকেলের ৮টি বিভাগের প্রধানদের নিয়ে করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড গঠন । সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি

নিউজ নাউ বাংলা/এসি/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ‌২৬ এপ্রিল ২০২৬