Monday, 28 September 2026 Breaking News
রানা প্লাজা ট্র্যা‌জে‌ডির সাত বছর আজ; শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন পুলিশের

রানা প্লাজা ট্র্যা‌জে‌ডির সাত বছর আজ; শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা নিবেদন পুলিশের

24 April 2020 · বাংলাদেশ

সাত বছর পেরিয়ে গেল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ট্রাজেডি। যে ট্রাজেডি শুধু মাত্র বাংলাদেশকেই নয়, গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল এ ঘটনায় প্রাণ হারান ১ হাজার ১৩৬ জন। রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পুলিশের শ্রদ্ধা প্রতি বছর এই দিনে রানা প্লাজার অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় স্বজনরা ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন । রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পুলিশের শ্রদ্ধা কিন্ত এবার করোনা ভাইরাসের কারনে কেউ আসেনি শ্রদ্ধা জানাতে। তাই রানা প্লাজা ধসের ৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সাভারের রানা প্লাজার সামনে ঢাকা জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার উপজেলা প্রশাসন, সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) এএফএম সায়েদ, আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) রিজাউল হক দিপুসহ শিল্প পুলিশের কর্মকর্তা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পুলিশের শ্রদ্ধা এর আগে, করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে স্বনির্ভর ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে ২৫টি শ্রমিক সংগঠন। এসময় ঘরে বসে রানা প্লাজার শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহবান করেন ও সব অনুষ্ঠান স্থগিত করে শ্রমিক সংগঠনগুলো। এছাড়া শ্রমিকদের মধ্যে আজ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা ভবন। ওই ঘটনায় এক হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত ও পঙ্গু হন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। দুই হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পুলিশের শ্রদ্ধা হত্যা মামলায় সিআইডির অ‌ভি‌যোগপ‌ত্রে ঘটনার বিবরণীতে এ‌সে‌ছে, ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টায় সাভারের রানা প্লাজা ভবনের তৃতীয় তলায় পিলার ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। খবর পেয়ে বিজিএমইএর কর্মকর্তারা রানা প্লাজা ভবনে আসেন। গার্মেন্টস মালিকদের পরামর্শ দেন, বুয়েটের ভবন বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করা পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখ‌তে। কিন্তু পাঁচ গার্মেন্টস মালিক এবং তাদের লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে পরদিন ২৪ এপ্রিল শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন। এর সঙ্গে যোগ দি‌য়ে সো‌হেল রানা ব‌লেন, ‘আগামী ১০০ বছরেও রানা প্লাজা ভেঙে পড়বে না।’ রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পুলিশের শ্রদ্ধা বাণিজ্যিক এ ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা ছিল। এসব কারখানায় বসানো হয় বৈদ্যুতিক ভারী জেনারেটর, ভারী সুইং মেশিন। রানা প্লাজা ধসের আগের দিন ভবনের তৃতীয় তলায় ফাটল দেখা দেয়। কিন্তু মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা না করে পরদিন পাঁচটি পোশাক কারখানা চালু করে। ঘটনার দিন সকাল ৯টায় রানা প্লাজায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন একসঙ্গে পোশাক কারখানাগুলো তিনটি জেনারেটর চালু করে। ঠিক তখনই রানা প্লাজা ভবন বিকট শব্দ করে ধসে পড়ে মৃত্যুপুরী‌তে পরিণত হয়। রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের পুলিশের শ্রদ্ধা রানা প্লাজা ধস হত্যা মামলায় অ‌ভিযুক্ত ৪১ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন কেবল ভবনের মালিক সোহেল রানা। বা‌কি আসা‌মি‌দের ম‌ধ্যে জামিনে আছেন ৩২ জন, পলাতক ছয়জন এবং মারা গেছেন দুইজন।