Monday, 28 September 2026 Breaking News
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে চায় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

2 January 2020 · বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকার আন্তরিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ সরকার চায় রোহিঙ্গারা নিজ দেশে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাক। মোমেন বলেন, আমরা তাদের এক লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা মাত্র আট হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়, যার জন্য দুই দফা তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সেটিও করেনি।’ বৃহস্পতিবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ মানবিক দিক থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু তাদের জোর করে দেশে ফেরত পাঠাতে চায় না। তারা যেন নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে নিজ দেশে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ কে মোমেন বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারকে বলেছি, তোমাদের জনগণ তোমাদের বিশ্বাস করছে না। তোমরা রোহিঙ্গা নেতাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখাও। তাহলে তাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। এ বিষয়ে আমরা মিয়ানমারকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু এর কোন জবাব আসেনি।’ কক্সবাজারের জীবনযাত্রা পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের জনসংখ্যা পাঁচ লাখ। আর সেখানে এই মুহূর্তে ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। যার কারণে কক্সবাজারের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সেখানকার তরুণরা চাকরি পাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার সংখ্যাও বেড়েছে। বিশ্বের অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও তা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশ সরকারের ৫ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এ অর্থ আমরা আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে পারতাম। ‘ফ্ল্যাশ অন রোহিঙ্গা জেনোসাইড’ শিরোনামে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি, দৈনিক ভোরের কাগজ ও প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম। প্রদর্শনীতে আলোকচিত্রী মাহমুদ হোসেন অপু, কে এম আসাদ, সুমন পাল ও সালাউদ্দিন আহমেদের তোলা শতাধিক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনী আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।