Monday, 28 September 2026 Breaking News
‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি’

‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি’

1 May 2025 · বাংলাদেশ

ঢাকা : বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (০১ মে) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মহান মে দিবস ও জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিকদের আগের অবস্থায় রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তাই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন জরুরি।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ছাত্র-শ্রমিক-জনগণের অভ্যুত্থান একটি নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করেছে। তবে সে নতুন বাংলাদেশ বাস্তবে রূপ নেবে না, যদি শ্রমিকদের অবস্থা আগের মতোই থেকে যায়। আজকের স্লোগানটি আমাদের দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, শ্রমিক মালিকের সুসম্পর্কের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মে দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রমিক ও মালিক পরস্পরের পরিপূরক। পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আমরা একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

শ্রমিকদের উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হলে মালিক শ্রমিকের ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। শ্রমিকের সম্ভাবনা বিকাশের মাধ্যমে দেশ গঠনে তাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী জুনে অনুষ্ঠিতব্য ১১৩তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে বাংলাদেশ। আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো শ্রম কমিশনের রিপোর্ট ও সুপারিশমালা। এ সুপারিশমালাই হবে আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। আমরা তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

ড. ইউনূস বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শ্রমিকের অধিকার নয়, এটি শিল্প উন্নয়নেরও অন্যতম শর্ত। শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন হলে তা পুরো অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হয়। শ্রমিকদের কল্যাণে সরকার বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শ্রম আদালতের কার্যক্রমকে গতিশীল করা হয়েছে, যার ফলে মামলা নিষ্পত্তির হারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

অনুষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ৫ জন শ্রমিক পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সুলতান উদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ হাংবোর একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়।

উল্লেখ্য, এ বছরের মে দিবস উদযাপনের প্রতিপাদ্য, ‘শ্রমিক-মালিক এক হয়ে গড়ব এ দেশ নতুন করে।’

নিউজ নাউ বাংলা / ০১ মে ২০২৫/ জেডআরসি