Sunday, 27 September 2026 Breaking News
বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে অভিনব কৌশলের ‘প্রি-ইলেকশন’

বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে অভিনব কৌশলের ‘প্রি-ইলেকশন’

16 August 2026 · বাংলাদেশ

➤ আসন্ন আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের গ্রামের আধিপত্য ও ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে অভিনব এক ‘প্রাথমিক নির্বাচন’ বা ‘ভোটের আগে ভোট’ সম্পন্ন করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দেবগ্রামবাসী।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে গ্রামটির একক মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন।

মূলত পৌর নির্বাচনে গ্রামের ভোট যাতে ভাগ না হয়, সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে নেওয়া ৫ লাখ টাকার জামানত বাজেয়াপ্তের শর্ত এবং নারী ভোটারদের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি।

নির্বাচনের ফলাফল ও প্রক্রিয়া 

কাগজে-কলমে এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬’। তবে আয়োজকরা স্বীকার করেছেন, এই সভাপতিই মূলত আসন্ন পৌর নির্বাচনে দেবগ্রামের একক মেয়র প্রার্থী হবেন।

গ্রামটিতে তিন হাজারেরও বেশি পুরুষ ভোটার থাকলেও শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ১ হাজার ৪৭৪ জন। ব্যালট পেপার, গোপন কক্ষ এবং অমোচনীয় কালির ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচনের মতোই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রার্থীদের মধ্যে ৭৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ছাতা প্রতীকের রুহুল আমিন খান সুমন। তার নিকতম প্রতিদ্বন্ধী ফুটবল প্রতীকের মো. ফয়েজ আহমেদ পেয়েছেন ৫১৫ ভোট আর মোরগ প্রতীক নিয়ে শেখ আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ২২৩ ভোট।

নির্বাচনের প্রিজাইডিং অফিসার কাজী মো. তারেক জানান, মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ২৭০ জন। এর মধ্যে বেলা ৩টা পর্যন্ত ১ হাজার ১৩১ জন ভোট দেন এবং দিনশেষে মোট কাস্ট হওয়া ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১,৪৭৪-এ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহাম্মদ খান জানান, ভোটগ্রহণ অত্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিদ্রোহী ঠেকাতে ৫ লাখ টাকার ‘জরিমানা’ 

গ্রামের একক প্রার্থী ঠিক করার পর কেউ যেন পরবর্তীতে মূল নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে না পারেন, সেজন্য কঠোর আর্থিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

নির্বাচন আয়োজকরা জানান, তিন প্রার্থীর প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় হিসেবে অফেরতযোগ্য। বাকি ৫ লাখ টাকা জামানত। ভোটে পরাজিত কোনো প্রার্থী যদি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন, তবে তার ওই ৫ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করে গ্রামের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আয়োজক বলেন, ‘এর আগে একজন বিদ্রোহ করেছিলেন। তখন জামানত ছিল না বলে তাকে আটকানো যায়নি। এবার আটকাতেই এই ব্যবস্থা।’

নেপথ্যের কথা 

নির্বাচনের একজন সহকারী নির্বাচন কমিশনার জানান, আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রথমে গ্রামের ৬ জন আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় পুরুষ ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে একজনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তিনি বলেন, ‘কাগজে-কলমে এটি উন্নয়ন কমিটির সভাপতির ভোট হলেও, যাকে আমরা নির্বাচিত করলাম তাকেই পরে মেয়র বা অন্য কোনো নির্বাচনে গ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে পাঠাব। বড় গ্রাম হিসেবে একক প্রার্থী থাকলে জয় পাওয়া সহজ হয়।’

একটি বেসরকারি বা সামাজিক উদ্যোগের নির্বাচন হলেও সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। ◉ 

নিউজ নাউ বাংলা/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ১৬ আগস্ট ২০২৬