Monday, 28 September 2026 Breaking News
প্রাথমিকে ‘মিড ডে মিল’ চালু হচ্ছে নভেম্বরে

প্রাথমিকে ‘মিড ডে মিল’ চালু হচ্ছে নভেম্বরে

28 October 2025 · বাংলাদেশ

ফারহানা শারমিন, ঢাকা: আগামী নভেম্বর মাস থেকে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে কর্মসূচিটি শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে চারটি বিভাগের নির্বাচিত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে দেশের ৮ বিভাগের ৬২ জেলার ১৫০ উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুবিধা পাবে। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এ প্রকল্প আপাতত সীমিত পরিসরে চারটি বিভাগে চালু হবে। ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই প্রথম পর্যায়ে এই সুবিধা পাবে। শুরুতে এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিস্কুট ও বনরুটি দেওয়া হবে। রিটেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত অন্য খাবারও যুক্ত করা হবে। জানা যায়, গত জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বা মিড ডে মিল প্রকল্পটির আওতায় স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে পাঁচ দিন সরবরাহ করা হবে পুষ্টিকর খাবার। এর মধ্যে রয়েছে বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফরটিফাইড বিস্কুট এবং মৌসুমি ফল বা কলা। সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পরিবেশন করা হবে বনরুটি ও সেদ্ধ ডিম। সোমবার বনরুটি ও দুধ এবং বুধবার মিলবে ফরটিফাইড বিস্কুট ও মৌসুমি ফল বা কলা। প্রতিটি বনরুটির ওজন নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ গ্রাম, প্রতিটি ডিম ৬০ গ্রাম, দুধ ২০০ গ্রাম, বিস্কুট ৭৫ গ্রাম ও ফল ১০০ গ্রাম। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের এই খাদ্যতালিকা শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করবে এবং ক্ষুধার তাড়না থেকে মুক্তি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার কমবে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশ ব্যয়ই বরাদ্দ রাখা হয়েছে খাদ্য সরবরাহের জন্য। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। প্রকল্পটির পরিচালক (পিডি) ও যুগ্ম সচিব হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, প্রকল্পটি আগামী ১৭ নভেম্বর থেকে চালু করা হবে। আপাতত চারটি বিভাগের নির্বাচিত বিদ্যালয়ে আমরা দুটি খাবার আইটেম দিয়ে কাজ শুরু করছি। বিস্কুট ও বনরুটি দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হবে। চারটি বিভাগের পর অন্য বিভাগগুলোতেও শিগগিরই কাজ শুরু হবে। হারুন অর রশীদ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং এটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সব দিক বিবেচনা করেই আমরা এগোচ্ছি। বর্তমানে কিছু খাবার আইটেমের রিটেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। টেন্ডারের কাজ শেষ হলে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য অন্য খাবারও যুক্ত করতে পারব।