Monday, 28 September 2026 Breaking News
কার্যকর হলো বঙ্গবন্ধুর খুনী আব্দুল মাজেদের ফাঁসি

কার্যকর হলো বঙ্গবন্ধুর খুনী আব্দুল মাজেদের ফাঁসি

11 April 2020 · বাংলাদেশ

কার্যকর করা হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ক্যাপ্টেন (বহিস্কৃত) আবদুল মাজেদের ফাঁসির । দিবাগত রাত ১২.    মিনিটে তাকে ফাঁসি দেযা হয়। এর মধ্যে দিয়ে কেরানীগঞ্জ কারাগারে প্রথম ফাঁসির কার্যকর হলো। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে কারা মহাপরিদর্শক, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ফাঁসির কার্যক্রম পরিদর্শন করতে ঢাকা জেলের ভেতরে প্রবেশ করেন।  ফাঁসি কার্যকরের পর তার লাশ ভোলায় দাফন করা হবে। লাশ ভোলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এম্বুলেন্সও প্রস্তুত রয়েছে। তাছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই কারাগারে ২০১৮ সালে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়। মঞ্চ তৈরির পর এখনও কারও ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসিই প্রথম কার্যকর করা হবে। এর আগে কারা মসজিদের ইমাম আব্দুল মাজেদকে তওবা পড়িয়েছেন। এসময় চিৎকার করে কেঁদেছেন মাজেদ।  জানা যায়, এই সম্পর্কিত সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। মঞ্চের লাইট জ্বালানো থাকে না। সেটা জ্বালানো হয়েছে। বিকেল বেলায় আসামির ওজনের সমান ওজন দিয়ে ফাঁসির ট্রায়ালও করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত সোয়া ১০টার দিকে সিভিল সার্জন পৌঁছেন কারাগারে। এরপর ১০টা ৪৭ মিনিটে পৌঁছেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে রাত ১০টা ৫২ মিনিটে কারাগারে গিয়ে পৌঁছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল পাশা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে মো. আবুল, তরিকুল ও সোহেলসহ ১০ জন জল্লাসের একটি দল এই ফাঁসির কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কারা সূত্র আরো জানায়, শুক্রবার মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগমসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। এর আগে গত বুধবার রাতে আবদুল মাজেদের প্রাণভিক্ষার আবেদনটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি আবেদনটি খারিজ করে দেন। বুধবার দুপুরে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হেলাল চৌধুরী তার মৃত্যুপরোয়ানা জারি করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গতকাল বেলা সোয়া একটায় কারা কর্তৃপক্ষ আসামিকে আদালতে হাজির করে। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটররা আসামি গ্রেফতার দেখানোসহ আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আসামি আব্দুল মাজেদকে গ্রেপ্তারসহ মৃত্যু পরোয়ানার আবেদন মঞ্জুর করেন। কারা সূত্র জানিয়ে, শবে বরাতের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে ফাঁসি কার্যকর হয়নি। শুক্রবারও ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনা কম। কিন্তু শনিবার দণ্ড কার্যকরের সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। অন্যথায় আগামীকাল রবিবার হবে। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় আব্দুল মাজেদের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিবারের ৫ সদস্য শেষ দেখা করে গেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের ডাকে সাড়া দিয়ে মাজেদের স্ত্রী, শ্যালক ও চাচা শ্বশুরসহ ৫ জন রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কারাগারের ভেতরেই ছিলেন। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, শুক্রবার রাতেই মাজেদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। বঙ্গবন্ধুর আলোচিত এই খুনি ২৩ বছর ধরে কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। তিনি গত ১৬ মার্চ ঢাকায় ফিরেন। ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ৩টায় রাজধানীর মিরপুর থেকে আব্দুল মাজেদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার শুনানির ১ ঘণ্টা পর দুপুর ১টায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। শুনানির সময় খুনি মাজেদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।