Monday, 28 September 2026 Breaking News
নারায়নগঞ্জ থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদের লাশ অপসারনের দাবি এলাকাবাসীর

নারায়নগঞ্জ থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদের লাশ অপসারনের দাবি এলাকাবাসীর

12 April 2020 · বাংলাদেশ

দাফন করা আব্দুল মাজেদের মরদেহ উঠিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের পর তার লাশ কঠোর গোপনীয়তার মধ্যেই ১২ এপ্রিল রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ইউনিয়নের হোসেনপুর এলাকায় দাফন করা হয়েছে। মাজেদের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ লাশ দাফন করা হয়। সোনারগাঁয়ে দাফন করার খবর সকালে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে সোনারগাঁয়ে মাজেদের লাশ অপসারণের দাবি জানান। সোনারগাঁ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খুনি মাজেদের লাশ সোনারগাঁওয়ে দাফন করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এলাকাবাসীর বক্তব্য, বঙ্গবন্ধুর খুনি লাশ দাফন করায় কলঙ্কিত হচ্ছে সোনারগাঁ। এর আগে, জন্মভিটা হলেও ভোলার মাটিতে ঠাঁই হয়নি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম আত্মস্বীকৃত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মজিদের মরদেহ। যদিও আগে থেকেই স্বজনরা প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ভোলার মাটিতেই দাফন করা হবে। কিন্তু স্থানীয়দের বাধা ও আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি। পরে শ্বশুরবাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাফন করা হলো তাকে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১২টা ১ মিনিটে আবদুল মাজেদের ফাঁসির কার্যকর করা হয়। কিন্তু কোথায় দাফন হবে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রাত আড়াইটার দিকে তার মরদেহ হস্তান্তর করা হয় পরিবারের সদস্যদের কাছে। রাত সোয়া ৩টার পর আবদুল মাজেদের চাচা শ্বশুরের তত্ত্বাবধানে পরিবারের সদস্যরা কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তার মরদেহ নিয়ে রওনা হন নারায়ণগঞ্জের পথে। মাজেদের মরদেহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করতেই সেখানে উপস্থিত জনতা তার উদ্দেশ্যে জুতা ও ঝাড়ু ছুড়তে শুরু করেন। আবদুল মাজেদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন, নিজ বাড়ি ভোলায় নিয়ে দাফন করা হবে আবদুল মাজেদকে। কারা কর্তৃপক্ষও তেমনটিই জানতেন। তবে ভোলার স্থানীয় জনগণ বঙ্গবন্ধুর খুনির মরদেহ তাদের মাটিতে দাফন করতে না দেয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থান নেন। বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। মাজেদের পরিবারও বিষয়টি জানতে পারেন। ফলে তার মরদেহটি  নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হয়। ফাঁসি কার্যকরের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সিদ্ধান্ত হয়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দাফন করা হবে আবদুল মাজেদকে।