➤➤ মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ সংঘাত কোটি কোটি মানুষকে ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের দাম হয়ে উঠেছে আকাশছোঁয়া। অন্যদিকে তহবিলের তীব্র ঘাটতির কারণে ত্রাণ সংস্থাগুলো সহায়তা কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
ফলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোমালিয়ায় তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ। আর আফগানিস্তানে এ সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ১ কোটি ৭৪ লাখে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় তা পৌঁছাতে পারে ৪৭ লাখে। শুক্রবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে আঞ্চলিক সংঘাত শুরু হয়, তা পারস্য উপসাগর থেকে লেবানন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল হয় বাধাগ্রস্ত। নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলো বাধ্য হয়ে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সাপ্লাই চেইনকে ব্যাহত করছে মারাত্মকভাবে।
➤➤ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের পূর্বাভাসডব্লিউএফপি মার্চে পূর্বাভাস দিয়েছিল, জুন পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের আশপাশে থাকলে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ। সংস্থাটি বলছে, তাদের সে আশঙ্কাই এখন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। মার্চের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অবস্থান করছে ওই স্তরের ওপরে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে আফগানিস্তান, সোমালিয়া ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো। জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, খাদ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয় কমে যাওয়া এবং পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এসব দেশের সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে খাচ্ছে হিমশিম।
ডব্লিউএফপির তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোমালিয়ায় তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়তে পারে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। অন্যদিকে, আফগানিস্তানে এ সংখ্যা পৌঁছাতে পারে ১ কোটি ৭৪ লাখে, আর শ্রীলঙ্কায় ৪৭ লাখে।
[caption id="attachment_193973" align="aligncenter" width="1024"]
সোমালিয়ায় খরা, তহবিল সংকট ও ক্ষুধার তীব্রতা পরিদর্শনে ডব্লিউএফপি কর্মকর্তার মোগাদিশু সফরকালে এক বাস্তুচ্যুত নারীর সকালের নাশতা তৈরির দৃশ্য-রয়টার্স[/caption]
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে আরও ২৫ লাখ সোমালি এবং ২৩ লাখ আফগান নাগরিক। দুটি দেশই আমদানি করা জ্বালানি ও খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ সংকটের প্রভাব তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় আরও ১৩ লাখ মানুষ পড়তে পারে ঝুঁকিতে।
এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোও বড় ধরনের তহবিল সংকটে পড়েছে। ডব্লিউএফপি বলছে, তহবিল ঘাটতির কারণে ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তাদের সহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা অন্তত ১৫ লাখ কমতে পারে। বর্তমান সংকট আরও ছয় মাস স্থায়ী হলে অতিরিক্ত ৯০ লাখ মানুষ সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে আফগানিস্তানে ত্রাণ পরিবহনের খরচ বেড়েছে পাঁচ গুণ পর্যন্ত। আর সহায়তার ট্রাকগুলো বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হওয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোর সময়ও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ১০ দিন সময় লাগত, সেখানে এখন ৭৫ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।
➤➤ জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে ৬০ শতাংশঅন্যদিকে সোমালিয়ায় বিমানের জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় জাতিসংঘ হিউম্যানিটারিয়ান এয়ার সার্ভিসের (ইউএনএইচএএস) পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে অনেক। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপদে ত্রাণ পৌঁছানোর এই বিমান পরিষেবা এখন বাড়তি খরচের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
নিউজ নাউ বাংলা/এফওয়াই/ জেডআরসি/ ০৫ জুন ২০২৬