Monday, 28 September 2026 Breaking News
তাজরীন ট্রাজেডির ৭ বছর

তাজরীন ট্রাজেডির ৭ বছর

24 November 2019 · বাংলাদেশ

তাজরীন গার্মেন্টস ট্রাজেডির ৭ বছর আজ। অগ্নিকাণ্ডের ৭ বছর পেরোলেও ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার সব সাক্ষীকে আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১২ সালে দায়ের হওয়া মামলায় ২০১৫ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পর থেকে গত চার বছরে ১০৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৬ জনের জবানবন্দি-জেরা শেষ হয়েছে। বাকি সাক্ষীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে দুষছেন শ্রমিক নেতারা। আর আশুলিয়া থানা পুলিশ দায়ী করছেন রাষ্ট্রপক্ষের সংশ্লিষ্ট আইনজীবী। তার দাবি, সমন পাঠানোর পরেও সাক্ষীদের হাজির করে না পুলিশ। ২০১৫ সালের ১লা অক্টোবর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আদালত। এরপর থেকে এই পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মোট ৩৫টি তারিখ ধার্য করা হয়। এই ৩৫ দিনের মধ্যে মাত্র ৬দিন রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য হাজির করেছে। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১১ জন পোশাক শ্রমিক মারা যান। পরে আহতদের মধ্যে আরও ৮ জন মারা গেলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৯। ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানার এসআই খায়রুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক একেএম মহসিনুজ্জামান খান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। মামলার আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানের মালিক দেলোয়ার হোসেন, চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, লোডার শামীম, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপার ভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর ও শহীদুজ্জামান দুলাল। এই আসামিদের মধ্যে পলাতক আসামিরা হলেন—আল আমিন, শামিম মিয়া, রানা, শহিদুজ্জামান দুলাল ও মোবারক হোসেন মঞ্জু। বাকিরা জামিনে। ৭ বছরেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বিচার না হওয়া হতাশ শ্রমিকরা।