Monday, 28 September 2026 Breaking News
টিকা সংকটে ম্লান দীর্ঘ সাফল্য, হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

টিকা সংকটে ম্লান দীর্ঘ সাফল্য, হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

25 April 2026 · বাংলাদেশ

➤ বাংলাদেশে হামের ব্যাপক বিস্তার এবং আশঙ্কাজনক হারে শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতিকে জাতীয় পর্যায়ে 'উচ্চ ঝুঁকি' হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই এই সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডব্লিউএইচও এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন এবং ২ হাজার ৮৯৭ জন ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে অন্তত ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩০টি মৃত্যু ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মোট আক্রান্তের ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ২ বছরের নিচে এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসেরও কম। মূলত টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যেই মৃত্যুহার বেশি দেখা যাচ্ছে।

➤➤ অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় ধুঁকছে স্বাস্থ্য খাত

সংস্থাটি বলছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের একটি বড় উদ্বেগ হলো, অনেক শিশু হয় টিকা পায়নি, নয়তো হামপ্রতিরোধী টিকার মাত্র এক ডোজ পেয়েছে। আবার কিছু শিশু ৯ মাস বয়সে টিকার উপযুক্ত বয়সে পৌঁছানোর আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অধিকাংশ রোগী, অর্থাৎ ৯১ শতাংশ, ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু।

ভৌগোলিকভাবে দেশের আটটি বিভাগেরই ৯১ শতাংশ জেলায় (৫৮টি জেলা) সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে (৮,২৬৩ জন), এরপরই রয়েছে রাজশাহী (৩,৭৪৭ জন), চট্টগ্রাম (২,৫১৪ জন) এবং খুলনা (১,৫৬৮ জন)।

ঢাকায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যেমন ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

ডব্লিউএইচও বলেছে, হাম নির্মূলে বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে যে সাফল্য অর্জন করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। সংস্থাটি তাদের ঝুঁকি মূল্যায়নে বলেছে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০০ সালে যেখানে হামের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ছিল ৮৯ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১১৮ শতাংশে উন্নীত হয়।

একইভাবে, ২০১২ সালে দেশব্যাপী টিকার দ্বিতীয় ডোজ চালু হওয়ার পর এর হার ছিল মাত্র ২২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ১২১ শতাংশে পৌঁছায়। এই সময়কালে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া হামের প্রকোপও নাটকীয়ভাবে কমে এসেছিল।

➤➤ ইউনূসের ‘গোলামী চুক্তি’তে ইরান-বাংলাদেশ সম্পর্কে ফাটল

তবে সাম্প্রতিককালে ২০২৪-২০২৫ সালের মধ্যে দেশজুড়ে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার মজুত শেষ হয়ে যাওয়া (স্টকআউট), নিয়মিত টিকাদানের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ঘাটতি এবং ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী কোনো নিয়মিত সম্পূরক ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণে টিকার আওতা কমে গেছে।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির প্রভাবে বিপুল সংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে, যা মূলত বর্তমান এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

বাংলাদেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়ায় আন্তঃসীমান্ত সংক্রমণেরও প্রবল ঝুঁকি দেখছে ডব্লিউএইচও। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সংক্রমণের উচ্চ হার এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজারের মতো আন্তর্জাতিক যাতায়াত হাবগুলো থেকেও সংক্রমণ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আঞ্চলিক পর্যায়েও ঝুঁকিকে 'উচ্চ' এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে 'মাঝারি' হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

➤➤ ১৩ বছরেও হয়নি ১১৩৮ শ্রমিক হত্যার বিচার

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি এলাকায় কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি জোরদার এবং সীমান্ত এলাকায় চলাচলকারী মানুষ ও অভিবাসীদের টিকার আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছে। তবে বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রমণ বা বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল থেকে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী বৃহৎ পরিসরে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই অভিযানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: নবোদয়

নিউজ নাউ বাংলা/এসি/ এফওয়াই/ জেডআরসি/ ‌২৫ এপ্রিল ২০২৬