Sunday, 27 September 2026 Breaking News
টঙ্গীর স্টেশন রোডে ছিনতাই ও মাদকের রাজত্ব, আতঙ্কে পথচারী

টঙ্গীর স্টেশন রোডে ছিনতাই ও মাদকের রাজত্ব, আতঙ্কে পথচারী

24 June 2026 · বাংলাদেশ

কে এ সুমন চৌধুরী, ঢাকা: গাজীপুরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র টঙ্গীর স্টেশন রোড এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের উৎপাত আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।

সন্ধ্যার পর নেমে আসে আতঙ্ক স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনভর ব্যস্ত থাকা এই স্টেশন রোড এলাকাটি সন্ধ্যার পর থেকেই অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কলকারখানার শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারী যাতায়াত করেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অন্ধকার ও নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারী চক্র পথচারীদের গতিরোধ করে মোবাইল, টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। অনেক সময় বাধা দিলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত করার ঘটনাও ঘটছে।

যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে, বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয় ছিনতাইয়ের পাশাপাশি স্টেশন রোড ও এর আশপাশের গলিতে মাদকের কারবার ও সেবন এখন ওপেন সিক্রেট। কিছু অসাধু ও প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এখানে গড়ে উঠেছে মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার কিশোর ও যুবসমাজ দ্রুত বিপথগামী হচ্ছে। মাদক কেনার টাকার জোগান দিতেই এই তরুণদের অনেকেই পরবর্তীতে ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে বিষিয়ে তুলছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫ দফা সুপারিশ টঙ্গীর স্টেশন রোডকে নিরাপদ ও মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকেরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন টঙ্গীবাসী। এর মধ্যে অন্যতম হলো:

নিয়মিত পুলিশি টহল: স্টেশন রোড ও এর সংলগ্ন অলিগলিতে ২৪ ঘণ্টা, বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত পুলিশের নিয়মিত ও আকস্মিক টহল জোরদার করা।

সিসিটিভি মনিটরিং: পুরো এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও অপরাধপ্রবণ স্পটগুলোকে আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা।

বিশেষ যৌথ অভিযান: চিহ্নিত মাদক কারবারি, স্পট পরিচালনাকারী এবং ছিনতাই চক্রের সদস্যদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।

কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার: স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে 'কমিউনিটি পুলিশিং' ও নৈশ পাহারার কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করা।

সামাজিক সচেতনতা ও সুস্থ সংস্কৃতি: তরুণ প্রজন্মকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে স্কুল-কলেজে সেমিনার করা এবং তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে ধরে রাখতে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ানো।

প্রশাসনের আশ্বাস ও সম্মিলিত উদ্যোগের তাগিদ এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এলাকাটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তারা।

সচেতন মহলের মতে, টঙ্গীর প্রবেশদ্বার খ্যাত এই স্টেশন রোডকে বাসযোগ্য ও নিরাপদ রাখতে প্রশাসন এবং জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের কোনো বিকল্প নেই। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এলাকাবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।

নিউজ নাউ বাংলা/কেএএস/ জেডআরসি/ ‌২৪ জুন ২০২৬