করোনা মোকাবেলা একটি যুদ্ধ, এই যুদ্ধে ঘরে থাকুন: প্রধানমন্ত্রী
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আতঙ্কিত না হয়ে দেশবাসীকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ৭১ সালে কাধে কাঁধ মিলে যুদ্ধ করেছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলাও একটি যুদ্ধ। তাই এই যুদ্ধে ঘরে থাকাই জনগণের দায়িত্ব।’
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষণে এ নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সঙ্গে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মুসলমানদের ঘরেই নামাজ আদায়ের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও ঘরে বসে প্রার্থনা করার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জানি আপনারা এক ধরনের আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যাদের আত্মীয়স্বজন বিদেশে আছেন, তারাও নিকটজনদের জন্য উদ্বিগ্ন। সবার মানসিক অবস্থা বুঝতে পারছি। কিন্তু এই সংকটময় সময়ে আমাদের ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে।’
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উপদেশ মেনে চলতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরামর্শ, আমাদের যতটা সম্ভব মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। যারা করোনাভাইরাস-আক্রান্ত দেশ থেকে স্বদেশে ফিরেছেন, সেসব প্রবাসীদের হোম-কোয়ারেন্টিনসহ (বাড়িতে সঙ্গ-নিরোধ) সব নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি।
শেখ হাসিনার কথায়, ‘মাত্র ১৪দিন আলাদা থাকুন। আপনার পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী, এলাকাবাসী ও সর্বোপরি দেশের মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য এসব নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। যতদূর সম্ভব ঘরে থাকবেন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না। বাইরে জরুরি কাজ সেরে বাড়িতে থাকুন।’
বঙ্গবন্ধু কন্যা মনে করেন, কয়েকটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সহজ হবে। যেমন– ঘনঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশি দিলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নেওয়া, যেখানে-সেখানে কফ-থুথু না ফেলা।
তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তাভাবনার বিলোপ ঘটায়। সবসময় খেয়াল রাখুন আপনি, আপনার পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হয়। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে ও সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে।’
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতারসহ দেশের সবগুলো টেলিভিশন চ্যানেল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাঁর ভাষণ সম্প্রচার হয়।
অতিরিক্ত পণ্য মজুত না করতে দেশবাসীকে আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। সেইসঙ্গে বেশি বেশি পণ্য উৎপাদন করতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দুই মাস কাউকে ঋণ খেলাপি না করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।