Monday, 28 September 2026 Breaking News
অক্টোবরে তফসিল, ডিসেম্বরে ভোট

অক্টোবরে তফসিল, ডিসেম্বরে ভোট

23 February 2025 · বাংলাদেশ

ঢাকা : আগামি ডিসেম্বরেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে কোনো অনিবার্য কারণে এই সময়ে নির্বাচন সম্ভব না হলে তা সর্বোচ্চ এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে।

এর আগেও গত ১৬ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়ের কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অল্প সংস্কার করে নির্বাচন চাইলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, আর আরেকটু বেশি সংস্কার করে নির্বাচন চাইলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব।

সূত্রগুলো বলছে, ডিসেম্বরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মোটামুটি নিশ্চিত। তবে যদি কোনো পরিস্থিতিগত কারণে এই সময় সম্ভব না হয়, তাহলে আগামি জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কারণ, মার্চে শুরু হবে পবিত্র রমজান মাস, যা নির্বাচন আয়োজনের জন্য অনুকূল সময় নয়। রমজান ও ঈদুল ফিতর মিলিয়ে প্রায় দুই মাস নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে। এরপর কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুম শুরু হলে নির্বাচন আয়োজন আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ডিসেম্বরেই নির্বাচন সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অক্টোবরের দিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তিনি জানান, অক্টোবরের দিকে তফসিল ঘোষণা, ডিসেম্বরে নির্বাচন এবং জানুয়ারির মধ্যে নতুন সরকার গঠন—এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যদিও নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি), তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচনের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইসি আগামী ডিসেম্বরেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি ও বাম গণতান্ত্রিক জোট ২০২৫ সালের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন চায়, তবে জামায়াতে ইসলামী আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য বিভিন্ন খাতে সংস্কার আনা। ইতোমধ্যে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও দুর্নীতি দমনসহ ১১টি খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। এসব কমিশন তাদের সুপারিশও জমা দিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এদিকে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপির মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হলে দেশজুড়ে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তাই নির্বাচনের সময় পুলিশ ও প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, দ্রুত নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন, তবে তা নির্ভর করছে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ওপর। প্রধান উপদেষ্টার প্রস্তাবিত জাতীয় সনদ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা দ্রুত বাস্তবায়িত হলে নির্বাচনও তত দ্রুত অনুষ্ঠিত হতে পারে।