সর্বশেষসারাদেশ

বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজ ডুবি: সাতক্ষীরার মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুন নিখোঁজ

বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি ওশান উইনার ডুবে যাওয়ার পর থেকে সাতক্ষীরার সন্তান মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুল্লাহ আল মামুন নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজের দু’দিন পার হয়ে গেলেও মামুনের কোনো সন্ধান না মেলায় তাঁর পরিবারে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ আবদুল্লাহ আল মামুন সাতক্ষীরা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলা এলাকার বাসিন্দা। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে তিনি এই জাহাজে সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, জাহাজটি ভারতের পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক (আয়রন ওর) বোঝাই করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।

শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র (এমআরসিসি) জাহাজটির সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করে, যার কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়। ২৪ জন ক্রু নিয়ে ডুবে যাওয়া ওই জাহাজে ২০ জন চীনের, ৩ জন মিয়ানমারের এবং একমাত্র বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে মামুন কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর নিকটবর্তী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এমটি আইসোপোস’ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে।

বর্তমানে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে একটি উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে। তবে জাহাজডুবির সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে মামুনের গ্রামের বাড়িতে এখন স্বজনদের কান্না থামাচ্ছ না। তাঁর বড় ভাই আবদুল্লাহ আল বাকী জানান, “শনিবার দুপুরে খবর পাওয়ার পর থেকে আমরা কোনো নিশ্চিত তথ্য পাচ্ছি না। নিয়োগকারী সংস্থাও স্পষ্ট কিছু জানাতে পারছে না।

আমরা ভারতীয় কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিশিয়াল তথ্যের প্রতীক্ষায় আছি। ” পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামুনের বাবা-মা দুজনই বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ। গত বুধবার পরিবারের সঙ্গে এবং বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধুর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসন অবগত রয়েছে। নিখোঁজ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মামুনের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button